নিজস্ব প্রতিবেদক ● যথাযথ নজরদারি ও তদারকির অভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। মূলত জনবল সঙ্কটেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, অধিকাংশ জেলাতেই প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধানকারী সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদে পর্যাপ্ত জনবল নেই। যেমন লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৮৫টি। ওসব স্কুলের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ রয়েছে ১৩টি। তার মধ্যে ৬টি পদই শূন্য। অর্থাৎ সেখানে অর্ধেকের মতো সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ খালি রয়েছে। একইভাবে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলে স্কুল সংখ্যা ৩২৬টি। উপজেলায় পপ্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকলেও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ৩টি পদই খালি। ফলে একা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ২৮ শতাংশ, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৩২, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ১৫ ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ১১ শতাংশ পদ খালি রয়েছে। ফলে যথাযথ তদারকি ও নজরদারির অভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যালয়গুলোর মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সময়মতো আসছেন কিনা, শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার, অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, এটি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোয় পরিদর্শনের বিকল্প নেই। অথচ বেশির ভাগ উপজেলাতেই পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি করা হচ্ছে না। ৬ মাস বা এক বছর বাদে পরিদর্শন করে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ঠিকমতো চলছে কিনা, তা বোঝা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিদর্শন। কাজেই পর্যাপ্তসংখ্যক লোকবল নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়গুলোয় নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
সূত্র জানায়, উপজেলাগুলোয় পর্যাপ্তসংখ্যক লোকবল না থাকায় অনেক সময় একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিক ক্লাস্টারের দায়িত্ব দেয়া হয়। ফলে অধিকাংশ স্কুলই নিয়মিত নজরদারির বাইরে থেকে যায়। একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি মাসে ১০টি বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার কথা। সেখানে কোনো কোনো কর্মকর্তার অধীনে ৬০-৭০টি করেও স্কুল রয়েছে। সে হিসাবে ওই কর্মকর্তার নির্ধারিত স্কুল পরিদর্শনে ৬-৭ মাস লেগে যাচ্ছে। অথচ নতুন নতুন বিদ্যালয়ও এখন সরকারীকরণ করা হচ্ছে। লোকবল সংকটের কারণে আগেরগুলোই ভালো করে নজরদারি করা যাচ্ছে না। নতুন করে বিদ্যালয় সরকারীকরণের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। বিষয়টি অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, লোকবল সংকট দূরীকরণে নতুন করে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের পদায়ন হলে এ সংকট কিছুটা লাঘব হবে।


