পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে সংগঠনটি। রবিবার মধ্যরাতে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির করে এ কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।
চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তির পর উপদেষ্টা কমিটির পরামর্শক্রমে ৩ সদষ্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইনআমুল হাসান ফারুকী।
আহ্বায়ক কমিটিতে রয়েছেন—প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম।
এই ঘোষণার ঘন্টাখানেক পর হেফাজত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম ঢাকা থেকে লাইভে এসে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন। পূর্বের ঘোষণার সাথে এতে আরও ২ জনের নাম যোগ করা হয়। এরা হচ্ছেন, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী ও রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন এর মুরুব্বী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।
ঢাকা-চট্রগ্রাম এই বিভ্রান্তির কারণ হেফাজত স্পষ্ট না করলেও জানা যায়, ৩ সদস্যের কমিটিতে ২ জন সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে এবং ৩ জনেরই আদিনিবাস চট্টগ্রামে একটি উপজেলায় হওয়ায় এনিয়ে হেফাজতের ভেতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফলে তড়িঘড়ি করে ঢাকা থেকে আরও ২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর আগে রবিবার (২৫ এপিল) দিবাগত রাত ১১টায় এক ভিডিও বার্তায় হেফাজতের কেন্দ্রেীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন সংগঠনের আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেতার পরামর্শে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে হেফাজতের কার্যক্রম শুরু হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে তাণ্ডব ও সহিংসতার পর হেফাজতের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় হেফাজতের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৯ হাজারের বেশি জনকে আসামি করা হয়েছে।
এসব মামলায় প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। রবিবার পর্যন্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ১৯ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


