পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমি গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে ম্যাডামকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। অনেকদিন পর তার মুখে হাসি দেখেছি, যেটা এই কয়দিন ছিল না।’
শুক্রবার (২১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহিলা দল আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতনে দীর্ঘ তিন বছর কারারুদ্ধ হয়ে আছেন। তিনি এখন অত্যন্ত অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’
তিনি বলেন, ‘সবাই জানেন, বেগম জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পোস্ট কোভিডের অনেকগুলো জটিলতা দেখা দেয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আমি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যারা সম্পূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে তার চিকিৎসা করছেন। প্রতিদিন তার মেডিক্যাল বোর্ড করছেন, প্রতিদিন তার চিকিৎসার মনিটর করছেন।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘গতকাল চিকিৎসকদের কাছ থেকে জেনেছি, তার শরীরে টেম্পারেচার নেই, শ্বাসকষ্ট নেই। কিন্তু পোস্ট কোভিড জটিলতায় তার হার্ট ও কিডনি এফেক্টেড। এটা নিয়ে চিকিৎসকেরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, চিন্তিত।’
বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, তার পরিবারের পক্ষ থেকে যখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, যদিও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। চিকিৎসকেরা বলছেন, উন্নত দেশে এ ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে, যেগুলোর মাধ্যমে তার চিকিৎসা সম্ভব, যেটা এই দেশে নেই। সেই কারণে বারবার করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। দুর্ভাগ্য আমাদের সরকার আবেদনে সাড়া দেয়নি।’
প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে । ১৫ এপ্রিল সিটিস্ক্যান করান তিনি। পরে অক্সিজেনজনিত সমস্যা দেখা দিলে ২৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ২৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত ও এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ৩ মে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে সেদিন বিকালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয় খালেদা জিয়াকে। পরে তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে ৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে লিখিত চিঠি দেন তার ভাই শামীম এস্কান্দার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ মে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা নেগেটিভ আসে।


