নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে ভোজ্য তেলে সঠিক মাত্রায় ভিটমিন ‘এ’ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভোজ্য তেল রিফাইনারি ও কোম্পানিগুলো তা আমলে না নিয়ে বরং ভিটামিন কারসাজি করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ভোজ্য তেলের ৩১টি নমুনার মধ্যে ১৭টিতে সঠিক মাত্রায় ‘এ’ পায়নি। বর্তমানে ২৬টি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে বিএসটিআই। এর ৫০ শতাংশই এখন রাইস ব্রান ওয়েলের।
বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএসটিআই’র পরীক্ষাগারে সম্প্রতি বোতলজাতকারী ভোজ্য তেলের ১৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ১২টিতে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন থাকলেও দুটিতে ভিটামিনের সঠিক মাত্রার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আর ড্রামের ১৭টি নমুনা পরীক্ষা করে তার ১৫টিতে ভিটামিনের সঠিক মাত্রা পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, ওই ১৫টির মধ্যে আবার ১২টিতে কোনো প্রকার ভিটামিন ‘এ’ মেশানোই হয়নি। অর্থাৎ মোট ৩১টি নমুনার মধ্যে ৫টিতে পরিমাণের চেয়ে কম ভিটামিনের উপস্থিতি এবং ১২টিতে ভিটামিন ‘এ’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অথচ সয়াবিন তেলে ভিটামিন ‘এ’-এর পরিমাণ থাকার কথা ১৫-৩০ পিপিএম। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবজনিত সৃষ্ট অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিরসনে সরকার ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন, ২০১৩ এবং বিধিমালা, ২০১৫-এর মাধ্যমে ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর ওই আইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই এবং প্রকল্প সহযোগী হিসেবে গেইন বাংলাদেশ কাজ করছে।
সূত্র জানায়, বাজার মনিটরিংয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকায় ব্যবসায়ীরা সরকারের নির্দেশনা আমলে নিচ্ছে না। এ কারণেই অর্ধেকের বেশি পরিমাণ নমুনাতে ভিটামিনের সঠিক উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ভোজ্য তেলে সঠিক পরিমাণে ভিটামিন মেশালে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২০-৪০ পয়সা পর্যন্ত খরচ পড়ে। বাজারে থাকা সব প্রকার ভোজ্য তেলের বাংলাদেশ মান সংশোধন, কারখানা পরিদর্শন এবং বাজার সার্ভেইল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআই নিয়মিত তা মনিটর করে থাকে। এর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে পারলে বিষয়টি সমাধানে আরো দ্রুত কাজ করা সম্ভাব। কিন্তুভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকার কারণে বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ আদলতের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ভিটামিন এ-সমৃদ্ধকরণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভোজ্য তেলে নির্ধারিত মাত্রার কমে ভোজ্য তেলে ভিটামিনসমৃদ্ধ করা ছাড়া বিক্রয়, সংরক্ষণ, সরবরাহ, বিপণন বা বাজারজাত করতে পারবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। তাছাড়া বাজার মনিটরিংয়ে বিএসটিআই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ারের কথা বলা আছে। গত ২৮ নভেম্বর বিষয়টি নিয়ে বিএসটিআই ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক হয়। তাতে বিএসটিআই মহাপরিচালক মো. সাইফুল হাসিব ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, ভোজ্য তেলের মান এবং ভিটামিনের পরিমাণ ঠিক রাখার জন্য সাধারণ ড্রামের পরিবর্তে ফুডগ্রেড ড্রামে ভোজ্য তেল সরবরাহ করতে হবে। তাছাড়া ড্রামের পরিবর্তে ধীরে ধীরে কনটেইনারে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী এস এম ইসহাক আলী জানান, ব্যবসায়ীরা এটা চাইলেই করতে পারে। আসলে তাদের সদিচ্ছার পুরোপুরি অভাব রয়েছে। তা না হলে এ অবস্থা তৈরি হতো না। কারণ প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ খরচ পড়ে ৪০ পয়সা।
অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান ও ‘ফর্টিফিকেশন অব এডিবল অয়েল ইন বাংলাদেশ (ফেজ-২)’-এর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ তাসারফ হোসেন ফরাজী জানান, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি ব্যবসায়ীদের আর সাধারণ ড্রাম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ফুডগ্রেড ড্রাম ব্যবহার করতে হবে। তার জন্য আমরা সব বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে সভা করব। এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধনের ব্যবস্থাও করা হবে।


