বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য আরব-মুসলিম শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বারের মতো একজন মুসলিম শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

ইয়েল কলেজ কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিসরীয় বংশোদ্ভূত বায়ান জালাল ৫৬ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২০ বছরের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই প্রথম মুসলিম তরুণী।

প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বায়ান বলেন, ‘একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার প্রধান লক্ষ্য হলো, ইয়েল শিক্ষার্থীদের ফলাফল দ্রুত প্রকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের ঋণ পরিশোধ করা। তাছাড়া করোনাকালে ইয়েলের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে এর পরিবেশকে স্বাস্থ্য মানে উন্নীত করা। একজন মুসলিম নারী হিসেবে, আমি এতগুলো কাজ কিছু ব্যক্তির একান্ত সহায়তায় পুরোপুরি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। তাঁরা আমার পক্ষে অনেক কাজ করেছেন।’

মিশরীয় বংশোদ্ভূত বায়ান জালাল (১৯) ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে শিক্ষার্থী। তিনি ডাবল মেজর বিষয় হিসেবে অণুজীববিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে পড়ছেন। এছাড়াও মাইনর বিষয় হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা নিয়ে পড়ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল, ইয়েল সোসাইটি ফল ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স, মুসলিম স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তৎপর কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন বায়ান। যুক্তরাষ্ট্রে এসে সংখ্যালঘু মুসলিমরা নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়। তদুপরি একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেছেন। নেতিবাচক মন্তব্যের সামনে আদর্শ মুসলিম পরিচয় প্রতিষ্ঠায় নিজেকে তুলে তুলে ধরছেন তিনি।

বায়ান বলেন, ‘মূলত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়া বেশ কঠিন। বেশকটি মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার নির্বাচনে জয়ী হওয়া সহজ হয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছাত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নীতিমাল প্রণয়নে কাজ করেছি। এর ফলে আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও অগ্রাধিকারগুলো সবার কাছে স্পষ্ট হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েবসাইট ও ভিডিও বার্তায় মাধ্যমে আমার প্রচারণা চালিয়েছি।’

বায়ান চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ডেন্টিস্ট বিভাগে পড়াশোনা করবেন বলে জানান। তাছাড়া চিকিৎসা বিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়েও পড়ছেন। প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মুসলিম ও সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বাড়াতে কাজ করবেন। তাছাড়া নেতৃত্বচর্চায় থেকে মুসলিম শিক্ষার্থীরা দেশের ইসলামফোবিয়া প্রশমিত করতে বড় ভূমিকা পালন করবে মনে করেন তিনি। তাছাড়া একজন হিজাবি তরুণী হিসেবে তিনি মনে করেন যে মুসলিম নারীরা নিজের যোগ্যতার প্রতি অনেক বেশি আস্থাশীল এবং তাঁরা নেতৃত্বচর্চায় সবার মতো অংশ নিতে পারেন।

সূত্র : দ্য ন্যাশনাল

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *