জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ

জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাছের উৎপাদন বাড়াতে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত (৬৫ দিন) মৎস্য শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। এই বিধিনিষেধ শেষে ইলিশ শিকারে সাগরে ছোটেন উপকূলের জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা যাচ্ছে না।

পটুয়াখালীর জেলেরা বলছেন, আপাতত চাশ ধরা ট্রলারগুলো তীরে থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সাগরে যাবে। দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার ইলিশের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তাই বেশি পরিমাণে মাছ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

একই ধরনের আশার কথা জানিয়ে ইলিশ গবেষক ও মৎস্যসম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এবারের নিষেধাজ্ঞা বেশ ভালোভাবে কার্যকর করা হয়। ইলিশের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্রগুলোতে পানির গুণগত মানও অনেক ভালো রয়েছে। এসব কারণে ইলিশের উৎপাদন যেমন ব্যাপকভাবে বেড়েছে, তেমনেই পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ায় স্বাদও বেড়েছে।

এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ শাখার উপ-প্রধান মাসুদা আরা মমি বলেন, ভরা মৌসুমে পানির মান ভালো হওয়ায় বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে। এটি জেলেদের জন্য যেমন আনন্দের খবর, তেমনই ইলিশ ক্রেতাদের জন্যও দারুণ সুখবর। কেননা, এবারের ইলিশ সংখ্যায় বাড়ার পাশাপাশি আকার ও পুষ্টগুণও বেড়েছে।

এদিকে, গভীর সমুদ্রে যেতে না পারলেও নদীতে জাল ফেলেও ভালো ইলিশ পাওয়ায় উপকূলীয় জেলেপল্লীতেও আনন্দের যেন শেষ নেই। উচ্ছ্বসিত জেলারা আবহাওয়াজনিত কারণে বিপাকে পড়লেও ট্রলার নিয়ে সাগড়ে ছোটার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর লডকাউন কর্যকর থাকায় মাছের বাজার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে জেলে পরিবারগুলো।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জেলে প্রতি ৮৬ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্ট করলেও ফের মাছ শিকারে ফিরতে পেরে খুশি জেলেরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর জেলেরা সাগরে ফিরতে পারায় এবার ভালো মাছ শিকারের আশা করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *