পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে শ্রীঘ্রই হিফজ ও মক্তব বিভাগসহ সারাদেশের কওমি মাদরাসা খোলার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার (২৫ আগস্ট) বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলেমদের বৈঠক শেষে এ আশ্বাস দেন তিনি।
আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, কওমি মাদরাসাগুলোতে কুরআন-হাদীস ভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হয় এবং কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দুআ, তাহাজ্জুদ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে মহামারি ও বালা-মসিবত হতে মুক্তির জন্য বিশেষভাবে মুনাজাত করা হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে জাতি করোনাসহ সবরকম বালা-মসিবত থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে। মাদরাসাগুলো বন্ধ থাকায় মহান আল্লাহর দরবারে সম্মিলিত ও ব্যাপক দুআ ও কান্নাকাটিও বন্ধ হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দেড় বছর হতে চলল সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীরা অহেতুক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। এহেন অবস্থায় সার্বিক বিবেচনায় সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অতি দ্রুত হিফজ ও মক্তব বিভাগ খুলে দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশের কওমি মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে আল্লামা মাহমুদুল হাসান যে সকল আলেম-উলামা, মাদরাসার ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান জেলখানায় বন্দী আছেন তাদেরকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার এবং যারা আত্মগোপনে আছেন বা হয়রানীর শিকার তাদের হয়রানী বন্ধেরও জোর দাবিও জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলেম-উলামাদের অনেককে জামিন দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে অংশ নেন- বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, ফরিদাবাদ মাদরাসা মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি নুরুল আমিন, বেফাকের সহ-সভাপতি মুফতি ফয়জুল্লাহ, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জাতীয় দ্বীনী শিক্ষাবোর্ডের সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মুফতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।


