পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রেওয়াজি দীন ছেড়ে হাকীকী দীন পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
শুক্রবার (২৭ আগস্ট) ইকরা বাংলাদেশ ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে এ আহ্বান জানান আল্লামা মাসঊদ।
দীনকে এখন রেওয়াজ হিসেবে পালন করা হয় মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, দীনকে আমরা দীন হিসেবে পালন করি না। দীনকে পালন করি রেওয়াজ হিসেবে। নামাজ পড়ি রেওয়াজ হিসেবে। রোজা রাখি রেওয়াজ হিসেবে। আবার সুদ-ঘুষকে আমাদের জীবনের অংশ হিসেবে বানিয়ে ফেলেছি। আমরা হাকীকী দীনকে পালন করি না। মূলত আমাদের অনুভূতিটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
সমাজে পর্দার যথাযথ ব্যাবহার নেই উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আজ পর্দা করা হয় রেওয়াজ হিসেবে। হাকীকী পর্দা কেউ পালন করি না। চাচাতো-ফুফাতো ভাই-বোনদের সাথে পর্দা করি না। বাইরের অপরিচিত সবার সাথে পর্দা করি। এ কেমন পর্দা?
রেওয়াজি দীনকে হাকীকী দীনে রূপান্তরি করার আহ্বান জানিয়ে এই আধ্যাত্নিক রাহবার বলেন, রেওয়াজি দীন দ্বারা কোনো ফায়দা হবে না। রেওয়াজি দীন দ্বারা কতটুকু লাভবান হওয়া যাবে তা কেবল আল্লাহ পাকই জানেন। ভাইয়ো, রেওয়াজি দীনকে হাকীকী দীনে রূপান্তর করতে হবে।
ইসলামের দৃষ্টিতে দীনের সঠিক পরিচয় ব্যাক্ষা করতে গিয়ে ফিদায়ে মিল্লাতের এই সুযোগ্য খলীফা বলেন, দীন হলো রাসুলের অনুসরণ করার নাম। রাসুলের অনুসরণের বাইরে কোনো কিছু দীন হতে পারে না। আর মুমিন হয় অনুসরনকারী। মুমিন কখনো রেওয়াজের গোলাম হতে পারে না। রাসুলের অনুসরণের বাইরে কোনো কিছু দীন হিসেবে সাব্যস্ত করা কুফুরির নামান্তর।
আমাদের নামাজ, রোজা সব কিছু বাড়ার পরও কেন সমাজে কোনো ধরণের পরিবর্তন হচ্ছে না এর কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আজকে আমাদের সব বেড়েছে। নামাজ বেড়েছে। রোযা বেড়েছে। দাওয়াত বেড়েছে। তারপরও কেন পরিবর্তন আসছে না? কারণ আমরা রেওয়াজি দীন বাড়িয়েছি। আর রেওয়াজি দীন দ্বারা কোনো লাভ হবে না। কারণ রেওয়াজি দীনের বিশ্বাসেই গণ্ডগোল।
হাকীকী দীনের উপর আসতে হলে মেহনতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেওয়াজি দীন থেকে হাকীকী দীনের উপর আসতে হলে মেহনতের প্রয়োজন। মেহনত ছাড়া হাকীকী দীনের উপর আসা যায় না। আর মেহনত করতে হলে কোনো আল্লাহওয়ার কাছে যেতে হবে। কিন্ত এখন আমরা আল্লাহওয়ালার দরবারে যাই চাকরীর জন্য দোয়া চাইতে।
বিপ্লবী চিন্তা নিয়ে তাবলীগের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আমরা নিয়ম করে চিল্লায় যাই, তিন দিনে সময় দেই। এইসবও আমরা করি রেওয়াজ হিসেবে। সমাজের সকল মানুষকে প্রভাবান্বিত করার বিপ্লবী চিন্তা নিয়ে আমরা তাবলীগে সময় দেই না। আমাদেরকে বিপ্লবী চিন্তা নিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ আঞ্জাম দিতে হবে।
দীনের জন্য ইহতেমামের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে গিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দীনের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহতেমামকে শর্ত করে দিয়েছেন। শুধু নামাজ পড়লেই হবে না, ইহতেমাম বা গুরুত্বও লাগবে। ঠিক তেমনিভাবে দীনের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় ইহতেমাম লাগবে। অথচ আমাদের ইহতেমামের আমল নাই। আমরা দৌড়াদৌড়ির আমলে লিপ্ত আছি। নামাজের জন্য মসজিদে অপেক্ষা করি না। ইমাম নামাজে দাঁড়ালে দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরি।


