অবিলম্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অবিলম্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ● বাংলাদেশ থেকে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের অবিলম্বে প্রত্যাবাসন শুরু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবিলম্বে প্রত্যাবাসন শুরু করুন। এতে মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। জাতিসংঘের নবনিযুক্ত আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই কথা বলেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনে স্থানীয় জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে স্থানীয় জনগণ তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, পাশাপাশি শরণার্থী শিবিরের আশপাশে বৃক্ষ নিধনের ফলে পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানবিক আচরণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মাত্র তিন সপ্তাহে মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক মানুষের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের কথা জানতে পেরে তিনি বিস্মীত। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন।

মিয়া সেপ্পো বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, সংকট নিরসনে এটি একটি দিক-নির্দেশনা হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের প্রতি তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সংস্থা ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্ব দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং মানবাধিকার পরিষদকে ধন্যবাদ জানান।

ফিনল্যান্ডের নাগরিক মিয়া সেপ্পো এ প্রসঙ্গে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক আর্থ-সামাজিক খাতে বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়ন ও তাদের ক্ষমতায়নে সরকারের উদ্যোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪৫ হাজার মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *