টিকায় ৫ কোটির মাইলফলক

টিকায় ৫ কোটির মাইলফলক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আজ মঙ্গলবার এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশজুড়ে আজ এক দিনেই টিকা পাবেন ৮০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনের স্মারক হিসেবে প্রথম ডোজ দেওয়া হবে ৭৫ লাখ মানুষকে। আর নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে আরো পাঁচ লাখ মানুষ টিকা পাবেন।

৭৫ লাখ টিকার জন্য দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় নির্ধারিত ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। ইপিআইয়ের নিয়মিত টিকাদানকর্মীদের সঙ্গে থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকরাও। মোট টিকাদানকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মিলে কাজ করবেন প্রায় ৮০ হাজার কর্মী। সকাল ৯টা থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত কেন্দ্রের নিবন্ধনকৃতদের মধ্যে টিকা নিতে আগ্রহীদের উপস্থিতি থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া চলবে।

এর আগে গত ৭ আগস্ট বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় এক দিনে সর্বোচ্চ ৩২ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছিলেন। এদিকে আজ এক দিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে দেশে সব মিলিয়ে টিকা দেওয়ার হিসাব পৌঁছে যাবে প্রায় পাঁচ কোটি ডোজে, যার মধ্যে প্রথম ডোজ পাওয়া মানুষের সংখ্যা পৌঁছে যাবে প্রায় তিন কোটি ২৫ লাখ-এ। আর এক কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষের পূর্ণ হবে দুই ডোজ।

কভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্যোগটি খুবই খুশির, আনন্দের ও উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা চাই উদ্যোগটি সফল হোক সুষ্ঠু ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। মানুষকেও এই কর্মসূচি সফলে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনায় যাঁরা থাকবেন, তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে মানুষকে যাতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে কিংবা রোদে পুড়ে অসুস্থ হতে না হয়। অবকাঠামোগত প্রস্তুতি যাতে তেমন রাখা হয়। এ ছাড়া শৃঙ্খলা ও টিকা নিতে আসা মানুষের সহায়তার জন্য প্রয়োজনে নির্ধারিত স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ব্যবহার করা দরকার। বিশেষ করে যাঁদের মাস্ক থাকবে না, তাঁদের যাতে মাস্ক সরবরাহ করা যায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গত রবিবার এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দেশের ৮০ লাখ মানুষকে এক দিনে করোনার টিকা দেওয়া হবে। তিনি একই সঙ্গে জানিয়েছিলেন, এখন আর টিকাপ্রাপ্তিতে সংকট নেই। কোভ্যাক্স থেকে কেনা ১০ কোটি ডোজের বাইরে আরো ছয় কোটি ৮০ ডোজ এবং চীনের সিনোফার্ম থেকে সাত কোটি ডোজ টিকা আসবে এ বছরের মধ্যেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিবন্ধন করেও যাঁরা এত দিন টিকা নিতে পারেননি, আজ তাঁদের মধ্য থেকে ২৫ বছরের বেশি বয়সীরা অগ্রাধিকার পাবেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ১০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে বলে আগের প্রতিশ্রুতির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকা সময়মতো পেলে তা পূরণ করা কঠিন নয়; কিন্তু সব কিছুই নির্ভর করছে টিকা হাতে পাওয়ার ওপর। তবু লক্ষ্যমাত্রা পুরোটা পূরণ না হলেও বড় একটা অংশ পূরণ হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওই ব্রিফিংয়ে আরো জানান, আজ টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে দেশের চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভা, ৪৪৩টি সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে টিকা দিতে ৩২ হাজার ৪০৬ জন সরকারি ও ৪৮ হাজার ৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবীসহ প্রায় ৮০ হাজার কর্মীকে টিকাদানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি বুথ, পৌরসভায় একটি করে এবং সিটি করপোরেশনে প্রতি ওয়ার্ডে তিনটি করে বুথ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে রাজনৈতিক নেতা, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ মিডিয়াকর্মীদের কাছে বিশেষ সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম এক ফেসবুক লাইভে আজকের কর্মসূচির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে জানান, এদিন সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়নে দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে, যা শুরু হবে সকাল ৯টা থেকে। এই ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তী মাসে একইভাবে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। ক্যাম্পেইনের আগে রেজিস্ট্রেশনকৃত ২৫ বছর বয়সোর্ধ্ব নাগরিকদের এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করে কেন্দ্রে ডাকা হবে। ক্যাম্পেইন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক নাগরিক, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের টিকা দেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার জন্য এনআইডি কার্ড ও টিকা কার্ড সঙ্গে আনতে হবে। ক্যাম্পেইনে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীদের টিকা দেওয়া হবে না।

মহাপরিচালক জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সিভিল প্রশাসনসহ সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে আজ এই বড় টিকা উৎসব চলবে। এই টিকাদানে কারো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটলে তাদের কিভাবে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে বা চিকিৎসা দিতে হবে সে ব্যাপারেও জানানো হবে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

এদিকে আজ দেশে আসছে ফাইজারের আরো ২৬ লাখ ডোজ টিকা। কোভ্যাক্স সুবিধায় এই টিকা আসছে বলে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। এ নিয়ে দেশে চারটি ব্র্যান্ডের মোট পাঁচ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার ডোজের বেশি টিকা দেশে আসবে। চীন থেকেই এসেছে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক টিকা। এর মধ্যে বুলগেরিয়া থেকে আরো দুই লাখ ডোজ টিকা এবং আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ফাইজারের টিকা দেশে আসছে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে সিনোফার্মের আরো এক লট টিকা আসার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *