গ্রেফতার করলেও রাজপথে থাকতে আলালের আহ্বান

গ্রেফতার করলেও রাজপথে থাকতে আলালের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণা দিন সব প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে রায়ের তারিখ পরিবর্তিত হয়, তাহলে পরের তারিখেও একই কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। রাজপথে আমাদের থাকতেই হবে। যতই গ্রেফতার করার হোক।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত’ বিএনপির চেয়ারপারসনের বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং গণ-গ্রেফতার বন্ধের দাবিতে এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, ৮, ৯, ১০ কিংবা ২৫, ২৬ তারিখ ব্যাপার না, ব্যাপারটা হচ্ছে অসৎ উদ্দেশ্যে রায় ঘোষণা করে খালেদা জিয়াকে এই বড় কারাগার থেকে ছোট কারাগারে নেয়ার ব্যবস্থা করা। রায় ঘোষণার দিনই যার যেখানে দায়িত্ব, কেউ থাকুক বা না থাকুক তাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হিসাবটা অত্যন্ত স্পষ্ট, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত আরেকটা নির্বাচন করা, এই সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, এটা প্রমাণিত। দেশের মধ্যে বিক্ষুব্ধতা, দেশের বাইরে থেকেও অান্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। এ নির্বাচন ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নির্বাচন করা সম্ভব না, ক্ষমতায় আসাও সম্ভব নয়। এতো ভালো ভালো কাজ-কর্ম তারা (বর্তমান সরকার) করেছেন। আর এর পথে বাধা হচ্ছে বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের সাহসী নেতা-কর্মীরা। এদের বড় কারাগার থেকে ছোট কারাগারে নিতে হবে। এটাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সব টাকা থাকার পরও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সম্পূর্ণ অসত্য ও সাজানো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দুটি মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জমি রয়েছে এর নামে সেখানে সাইনবোর্ড রয়েছে, বগুড়ায় এর কার্যক্রম চলছে, যে জমি ক্রয় করা হয়েছে তার পাশে মসজিদ এবং মাদরাসার কাজ চলছে। ব্যাংকে টাকা বেড়ে ৩ গুণের বেশি হয়েছে, তারপরও আত্মসাৎ মামলা।’

দুদকের আইনজীবী রাজনৈতিক বক্তব্য দেন দাবি করে আলাল বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন কাজল দুদকের আইনজীবী, তিনি দাঁড়িয়ে সবসময় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলা! অথচ তার বিরুদ্ধে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলে আদালত গ্রহণ করেন না।’

মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও আবদুল হাই বাচ্চুর নামে মামলা নেই কেন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের একই ঘটনা। টাকা রয়েছে, কাকরাইলে জমি কেনা রয়েছে, সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে আর্কিটেক্টারাল ডিজাইনের জন্য কনসালট্যান্টকে টাকা দেয়া হয়েছে, সমস্ত খরচের পড়েও মূল অর্থ সেখানে ঠিক মতই রয়েছে। তারপরেও মামলা! এটাই যদি হয়, ফার্মাস ব্যাংকের এমডি মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বরাদ্দ জলবায়ু তহবিলের ৫০০ কোটি টাকা, হজম করে ফেলল, সেটা নিয়ে মামলা নেই কেন? বেসিক ব্যাংকের আবদুল হাই বাচ্চু, যার নামে এতোগুলো মামলা, কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে মামলা নাই কেন?’

‘এছাড়া সোনালী ব্যাংকের টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা সেগুলো নিয়ে মামলা নেই কেন? কারণ তারা কেউই শেখ হাসিনার রাজনেতিক প্রতিদ্বন্দ্বী না। এই কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নাই। এ কারণের তার আশপাশের লোকদের গ্রেফতার করা হয় না। আজকে সর্বত্র যে অবস্থা তৈরি করেছে তারা, এর মধ্যে দিয়ে একদিন তারাই এই ফাদের মধ্য পড়বে। লক্ষণতো ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, জাসাসের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *