পাগলা মসজিদের দানবাক্সে বিপুল পরিমান অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে বিপুল পরিমান অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আবারও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা। শনিবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মেশিন নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ শত শত লোক অংশ নিলেও এসব পুরোপুরি গননার কাজ শেষ হতে বিকাল গড়িয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদী পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে নতুন তিনটিসহ মোট আটটি লোহার বানানো দানবাক্স রয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর এসব বাক্স খোলার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু এবার করোনাকালের জন্য ৪ মাস ১৭ দিন পর শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এসব দানবাক্স খোলা হয়। খুলে সবার চক্ষু চড়কগাছ!
বরাবরের মতোই এসব দানবাক্স খোলার পর এ বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কার মেলে।

এর আগে চলতি বছরের ১৯ জুন এসব দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ টাকা। এ ছাড়া বিদেশি মুদ্রাসহ স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কার।

মসজিদটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব অর্থ এ মসজিদসহ জেলার সব মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

এখানে মানত কিংবা দানখয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন ওই মসজিদে।

জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনকে নিয়ে গঠিত ২৯ সদস্যের কমিটি এ মসজিদটির ব্যবস্থাপনা ও দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। আর দানের বিপুল অর্থ মসজিদ ও মসজিদ ক্যাম্পাসে অবস্থিত মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

আর টাকা গোনার কাজে জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট (এডিএম), নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, নির্বাহী মাজিস্ট্রেট , রূপালী ব্যাংকের এজিএম ও অন্যান্য কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে থাকেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *