উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ

উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কিন্তু চীন সবসময়ই সেটা অস্বীকার করে গেছে কিংবা পাশ কাটিয়ে গেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এসব অপপ্রচার। এই যখন পরিস্থিতি, তখন উইঘুরদের নির্যাতনের ২০ মিনিটের এক তথ্যচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে ওই গোষ্ঠীটির মানবাধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।

গুয়ান গুয়ান নামের চীনের একজন সমাজকর্মী ভিডিওটি করেছেন। চীনের শিনঝিয়াং প্রদেশে থাকা উইঘুর বন্দি শিবিরগুলোতে কী নির্মম অত্যাচার চলছে, ভিডিওতে তা দেখানো হয়েছে। কোনো অভিযোগ ছাড়া, কোনো বিচার ছাড়া কেবল মুসলমান হওয়ার অপরাধে সেখানে তাদের বন্দি রেখে চালানো হচ্ছে নির্যাতন।

চীনের শিনঝিয়াং প্রদেশের ৮টি শহরে ঘুরে ১৮টি বন্দি শিবিরের দুরবস্থা তুলে ধরা হয়েছে ভিডিওতে। বিদেশি কোনো সাংবাদিকের পক্ষে এমন ভিডিও করা একপ্রকার অসম্ভব। কিন্তু গুয়ান গুয়ান সেদেশেরই নাগরিক হওয়ায় কৌশলে এই ভিডিও ধারণ করতে পেরেছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৮টি বন্দি শিবিরের ভিডিও করতে পেরেছেন তিনি। সেখানে এ ধরনের আরও অনেক বন্দিশিবির রয়েছে।

শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লংঘনের জন্য বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক সমন্বিত প্রয়াসের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করা হয়।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশের বন্দি শিবিরগুলোতে লাখ লাখ উইঘুরকে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সময় বন্দিদের ওপর নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চীন প্রথমে এগুলোর অস্তিত্বই স্বীকার করতো না। কিন্তু পরে তারা এগুলোকে ‘সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসব পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে নারীরা নিয়মিত ও পরিকল্পিতভবে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন।

উত্তর পশ্চিম চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিম সংখ্যালঘু এই উইঘুরদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, চীনা সরকার উইঘুরদের ধর্মীয় ও অন্য স্বাধীনতার ক্রমে ক্রমে হরণ করেছে এবং গণ-নজরদারি, বন্দিত্ব, মগজ ধোলাই এবং জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ করানোর এক নির্মম ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *