জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন গৃহীত

জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন গৃহীত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

রেজুলেশনটি উত্থাপনকালে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা তার বক্তব্যে বলেন, এ বছর রেজুলেশনটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও জরুরি। কারণ বিশ্বব্যাপী আমরা কভিড-১৯ মহামারির নজিরবিহীন ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলেছি।

১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজুলেশনটি প্রথমবারের মতো গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশ ‘শান্তির সংস্কৃতি’রেজুলেশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করে আসছে।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৭ সেপ্টেম্বর ‘শান্তির সংস্কৃতি’বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতি উত্তরনে কার্যক্রমগুলোতে সবার অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ঘুরে দাড়ানোর সামর্থ অর্জনের বিষয়টি আরও এগিয়ে নিতে শান্তির সংস্কৃতি যে রূপান্তরধর্মী ভূমিকা পালন করতে পারে তা তুলে ধরা হয় ফোরামটিতে।

এই বছর রেজুলেশনটিতে করোনাকালীন বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে আয়, সুযোগ, তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ভ্যাকসিনের নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যগুলো।

এছাড়া করোনার সময়ে লিঙ্গ বৈষম্য ব্যাপকতর হয়েছে, ঘৃণ্য বক্তব্য, কালিমা লেপন, বর্ণবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে রেজুলেশনটিতে। সহনশীলতা, বৈষম্য বিলোপ, বহুত্ববাদ, মত প্রকাশ ও কথা বলার স্বাধীনতাসহ ঘৃণ্য বক্তব্য মোকাবেলা করার মতো বিষয়গুলো আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এটিতে।

প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কোভিড পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় রাষ্ট্রগুলো যাতে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ধারণাটি কাজে লাগায় সে আহ্বানও জানানো হয়েছে এবারের রেজুলেশনে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেজুলেশনটির প্রাসঙ্গিকতা বহুগুণে বেড়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের প্রধান প্রধান কার্যাবলীতে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটি বৃহত্তর পদচিহ্ন রাখতে পেরেছে এবং একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী রেজুলেশনে পরিণত হতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এটি একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত, যা বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ সনদের দায়বদ্ধতার পরিপূরক হিসেবেও ভূমিকা রেখে চলেছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *