আজ মালদ্বীপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আজ মালদ্বীপ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার দুপুরে মালদ্বীপে যাচ্ছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর।

এই সফর নিয়ে গত রবিবার ঢাকায় ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, মালদ্বীপে ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফর চূড়ান্ত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ২৪ ডিসেম্বর মালেতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ সফরে দুই দেশের মধ্যে চারটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। এগুলো হলো দ্বৈত কর পরিহার ও আয়কর ফাঁকি প্রতিরোধ চুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিত্সাবিজ্ঞান খাতে সহযোগিতাবিষয়ক এমওইউ (নবায়ন), যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক এমওইউ এবং দক্ষ স্বাস্থ্য ও পেশাজীবী নিয়োগ বিষয়ে এমওইউ।

মালদ্বীপের সঙ্গে দক্ষ স্বাস্থ্য ও পেশাজীবী নিয়োগ বিষয়ে এমওইউ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও চিকিৎসা পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা গত রবিবার মালদ্বীপের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দি স্থানান্তর চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। তবে ওই চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, সেনাপ্রধান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্রসচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ বিশেষ ফ্লাইটে মালের ভিলানা বিমানবন্দরে পৌঁছার পর মালদ্বীপ সরকারের পক্ষে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। তখন তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হবে। ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদে যাবেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং চুক্তি ও এমওইউ স্বাক্ষরিত হতে পারে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন। প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের জাতীয় পার্লামেন্টেও বক্তব্য দেবেন।

এ ছাড়া মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনুরোধের প্ররিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দেওয়া ১৩টি সেনা যান বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে। দুই নেতা যৌথভাবে মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে তাঁদের কর্মসূচি উপস্থাপন করবেন। আগামীকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সম্মানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যোগ দেবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *