পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনা মহামারির মধ্যে দেশের একের পর এক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। চলমান অভিযানে এই খাতের আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
চটকদার অফারের বিজ্ঞাপন প্রচার করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে- ইভ্যালি, কিউকম, ধামাকা, ই-অরেঞ্জসহ আরও গোটা দশেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আটকে আছে পেমেন্ট গেটওয়েতে।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকা পড়া ২১৪ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে মামলার বাইরে থাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর গেটওয়েতে আটকা টাকা আগামী জানুয়ারি থেকে ফেরত দেওয়া হবে।
গত ১৫ ডিসেম্বর এসক্রো সার্ভিসে গ্রাহকদের আটকা টাকা ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু মামলা থাকায় অর্থ ছাড়ে জটিলতা দেখা দিলে ৭ দিনের মধ্যে সব মামলার তথ্য জানতে চায় মন্ত্রণালয়। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে একটি চিঠিও দেওয়া হয় গত সপ্তাহে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া শুরু হতে পারে। এ নিয়ে কাজ করছে ডিজিটাল কমার্স সেলসহ সংশ্লিষ্ট উইং, সঙ্গে আছে একটি টেকনিক্যাল কমিটিও।
তবে ইভ্যালি নিয়ে হাইকোর্ট কমিটি দেখভাল করায় তারাই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে অবজারভেশন দেবে। এ ছাড়া ২১৪ কোটি টাকার বাইরে যেসব টাকা আটকে আছে, সেগুলো ফেরত দেওয়া নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান এএইচএম সফিকুজ্জামান। তিনি জানান, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে কাজ করছে সিআইডি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, তাদের বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।


