পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বর্তমানে নাজুক পরিস্থিতি চলছে মন্তব্য করে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, দেশ ও জাতির এ সঙ্কটময় মুহূর্তে হেফাজতের সাবেক মহাসচিব আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদীর মতো হক ও ন্যায় নীতির ওপর অটল-অবিচল, নিষ্ঠাবান আলেম খুবই প্রয়োজন ছিল।
বুধবার (৫ জানুয়ারি) খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসায় হেফাজতের উদ্যোগে ‘আল্লামা নুরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম শীর্ষক’ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন-হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।
হেফাজতের নায়েবে আমির আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।
আলোচনা সভার আগে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমানকে পূর্ণ মহাসচিব করা হয়। এছাড়া মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরীকে যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে হেফাজত মহাসচিব বলেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম অনেক পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি একই সাথে খতমে নবুওয়াতের সভাপতি, বেফাকের সহসভাপতি, হাইয়াতুল উলিয়ার সদস্য ও দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ছিলেন। নিকট অতীতে ওনার মতো মেধাবী ও বিচক্ষণ আলেম খুব কম পেয়েছি আমরা। তিনি দীর্ঘ সময় আকাবীরদের সাথে কাজ করেছেন। তার মধ্যে আকাবীরদের ঝলক দেখা যেতো। তিনি যে দায়িত্বই পালন করেছেন সেখানে সর্বোচ্চ মেধার ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।
হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফী হেফাজতকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে। তিনি বার বার বলে গেছেন হেফাজতের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও নেই। আমরাও স্পষ্ট করে বলতে চাই, হেফাজত এখনো শাইখুল ইসলাম, আল্লামা বাবুনগরী ও আল্লামা নুরুল ইসলামের পথ অনুসরণ করে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং এ পথেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লামা সাজিদুর রহমান তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম সর্বশেষ ৩ দফা দাবি জানিয়েছিলেন। আমরা আজকের এ সভা থেকে সেই তিনটি দাবি আবারো জানাতে চাই।
এক : ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে আইন পাস করতে হবে।
দুই : কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।
তিন : কারাবন্দী সব আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতাকে মুক্তি দিতে হবে।


