নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনসমাবেশে বা সভাস্থলে যদি কিছু না ঘটে থাকে তবে তার দায় আওয়ামী লীগের না। এটা আমাদের দলের বিষয় না। তবে বাইরে কিছু ঘটে থাকলে তার দায় সরকারের আছে। কোথাও যদি কিছু ঘটে থাকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন খতিয়ে দেখছেন, ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কাদের বলেন, আমরা বিগত দিনে এ ধরনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেইনি। বুধবারের ঘটনাতেও কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে দলটির দফতর উপকমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বিকাল ৪টায় দফতর উপকমিটির সদস্যের সঙ্গে একান্তে বৈঠকে বসেন ওবায়দুল কাদের। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় কোনো ব্যক্তি বা দলকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেননি দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে যাওয়া জাতির মুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তিনি কথা বলেছেন আগামী নির্বাচন নিয়ে। সে নির্বাচনে যাতে কোনো জঙ্গিবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে। এতে বিএনপির অন্তর্জ্বালা কেন?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সামনে নির্বাচন। দলের সভানেত্রী হিসেবে তিনি সমাবেশে ভোট চাইতেই পারেন। এটা তো কারো আঁতে ঘাঁ লাগা বা অন্তর্জ্বালার বিষয় না!
‘সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে’ বিএনপির এমন অভিযোগ নিয়ে করা অপর প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, সিনিয়র নেতা যাদেরকে বুঝায় এমন কোনো নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।
তিনি বলেন, বুধবার দেখলাম বিএনপির যারা সিনিয়র নেতা তারা কারাগারে গিয়ে দলটির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেছেন। ঘণ্টাব্যাপী কথা বলেছেন। দেখলাম তারা হাসিমুখে বেরিয়ে এসেছেন।
বিএনপি নিজেরাই কর্মসূচি দিয়ে মারামারি, হাতাহাতি করে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এর দায় তারা সরকারের ওপর চাপাতে চায়। সব বিষয়ে তারা সরকার নামের নন্দনালের ঘাড়ে দোষ দেয়।
৭ মার্চের জনসমাবেশে জনকোলহ বা দ্বন্দ্বের একটি প্রমাণও নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, খুবই সুশৃঙ্খল একটি সমাবেশ হয়েছে।
তিনি বলেন, জনসমুদ্রের সমাবেশে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই আসেননি। এখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাসী সব শ্রেণির মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক জনসভা।
কাদের বলেন, অনেকেই বিশ্বাস করতেই চায়নি এত বড় সমাবেশ হবে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের একটি স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ করতে সক্ষম হয়েছি। এর আগে এত বড়, এতো কালারফুল সমাবেশ কেউ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, শুধু ঢাকাতেই না; এর আগে ঢাকার বাইরে সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সমাবেশ করেছেন সেগুলোতেও স্মরণকালে সর্ববৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করছে উপকমিটি জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি উপকমিটি সেমিনার করেছে। বাকিরাও করবে।
উপকমিটি গঠনে প্রাথমিকভাবে সফলতার কথা জানিয়ে কাদের বলেন, এটি একটি দুরূহ কাজ। সবাই কাজ করছে। আমরা দেখছি। আরো ২ মাস আছে। এর মধ্যে কেউ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে, বিতর্কিত হলে, মামলা থাকলে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন প্রমাণ হলে কমিটিতে যোজন-বিয়োজন হবে। তবে সবাই যদি দলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ও দলের আদর্শের সঙ্গে এক হয় তবে বাদ দেয়ার প্রশ্ন আসে না।
বৃহস্পতিবার কমিটির বৈঠকে ওবায়দুল কাদের উপস্থিত নেতাকর্মীদের এমন আভাস দিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপকমিটির সব সদস্যকে সতর্কতার সঙ্গে পথ চলতে বলেন কাদের।
এ সময় তিনি বলেন, অনেককেই অনেক কথা বলছে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে দলের ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নাম হয়।
তিনি বলেন, দফতর সম্পাদকের অনেক কাজ। দেশের সব নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দফতর উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দফতর উপকমিটির সদস্যসচিব আবদুস সোবহান গোলাপ, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপকমিটির সদস্য খন্দকার তারেক রায়হান, মেহেদী হাসান, দেলোয়ার রহমান দিপু, নাসিম আল মোমিন রূপক, শাহীন আহমেদ, ইস্কান্দার মির্জা প্রমুখ।


