জুলুমের বিরুদ্ধে বিশ্বমুসলিমকে এক হতে হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য আমরা তো দুআ করবোই, যাদের যেভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব সেটাও আমরা চিন্তাভাবনা করি। পৃথিবীর মুসলমানরা যদি চাপ দেয় মুসলিম বিরোধী আক্রমণ-হামলা বন্ধ হতে পারে।
বিশ্বের প্রত্যেক মুসলমানের নিজেদের জীবন বদলের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি নবীজীর জীবানালোকে আমাদের জীবন গড়তে না পারি তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না।
দাঙ্গার মাধ্যমে মুসলিমনিধন বৌদ্ধধর্মমতেরই চরম লঙ্ঘন। কারণ তারা মহামতি বৌদ্ধের উদ্বৃতি দিয়ে নিজেরাই বলেন, জীব হত্যা মহাপাপ।
দেশের বৌদ্ধভিক্ষুদের প্রতি শান্তিবাদিতার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দাঙ্গার মাধ্যমে মুসলিমনিধন বৌদ্ধধর্মমতেরই চরম লঙ্ঘন। কারণ তারা মহামতি বৌদ্ধের উদ্বৃতি দিয়ে নিজেরাই বলেন, জীব হত্যা মহাপাপ।
বৌদ্ধভিক্ষুদের প্রতি আল্লামা মাসঊদ প্রশ্ন রেখে বলেন, মিয়ানমারে, শ্রীলঙ্কায় যেসব মুসলমান তাদের হামলার শিকার হচ্ছেন তারা কি জীব নয়। এরা তো সৃষ্টির সেরা জীব। আমি বলবো, দাঙ্গা বাঁধিয়ে মুসলিমহত্যা করা মহাপাপ। তাই দেশের বৌদ্ধভিক্ষুদেরও সক্রিয়া ও সচেতনভাবে শ্রীলঙ্কায় নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। শ্রীলঙ্কা সরকারকে চাপ দেয়া উচিত।
পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রেও এরকম নির্যাতনের রেশ কখনো কখনো ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সংখ্যালঘুদের জীবনে অনেক সময় বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়ে যায়। তবে আমরা এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখবো ইনশাআল্লাহ। বাইরের অবস্থা দেখে আমাদের দেশে যেনো কেউ কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে। কারণ ইসলামে এক জায়গার প্রতিশোধ আরেক জায়গায় নেয়াটাকে জায়েয বলে না। বরং ইসলাম তো বলে, একজন মানুষ নিজের জানমাল হেফাজত করাকে যতটা জরুরি মনে করে ঠিক সেরকমভাবেই সংখ্যালঘুদের জানমাল হেফাজত করবে।
একজন মানুষ নিজের জানমাল হেফাজত করাকে যতটা জরুরি মনে করে ঠিক সেরকমভাবেই সংখ্যালঘুদের জানমাল হেফাজত করবে।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঘোষিত দুআ দিবসে শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর ইকরা বাংলাদেশ কমপ্লেক্স জামে মসজিদ চত্বরে আল্লামা মাসঊদ এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বাইরেও পালিত হয়েছে জমিয়ত ঘোষিত এই দুআ দিবস। রংপুরে মাওলানা হুসাইন আহমদ, খুলনায় মাওলানা মিসবাহ উদ্দীন, বাগেরহাটে মাওলানা মুজাফ্ফার হোসাইন, খালিসপুরে মুফতি আবুল কাসেম, ময়মনসিংহে মুফতি তাজুল ইসলাম, মুক্তাগাছায় মাওলানা উবায়দুর রহমান, টাঙ্গাইলে মাওলানা হুমায়ুন কবির, কিশোরগঞ্জে শাইখুল হাদিস মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন, কুলিয়ারচরে মুফতি আবদুল কাইয়ুম খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাওলানা শফিকুল ইসলাম, হবিগঞ্জে মুফতি আনোয়ার আমীর, নবীগঞ্জে মাওলানা মুজাহিদ আলী, মৌলভীবাজারে মাওলানা মুঈনুল হক চৌধুরী, কারী শামসুল হক, সিলেটে শাইখুল হাদিস মাওলানা তহুরুল হক জকিগঞ্জী, কানাইঘাটে মাওলানা বদরুল হাসান রায়গড়ি, নোয়াখালীতে মাওলানা জুনাইদ আহমদ, কুমিল্লায় সারওয়ার আলম, চট্টগ্রামে মাওলানা আসাদুল্লাহ, কক্সবাজারে মাওলানা শোয়াইব রশিদ, মাওলানা নুরুল আলম, বান্দরবানে মাওলানা আশরাফ হোমাইদ, শরিয়তপুরে মাওলানা আবদুল বাতেন, মুন্সিগঞ্জে মাওলানা নাইমুল হাসান, নারায়ণগঞ্জে মাওলানা কামাল উদ্দীন, মানিকগঞ্জে মাওলানা শহীদুল ইসলাম, গাজীপুরে মাওলানা আবদুর রহীম, গোপালগঞ্জে মুস্তাফিজুর রহমান, মাদারিপুরে মাওলানা আকরামউদ্দীন, নরসিংদীতে মাওলানা শওকত আলী, রাজবাড়ি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, চাঁদপুরে মাওলানা সাইফুদ্দীন, নেত্রকোনায় মাওলানা জসীমউদ্দীন, জামালপুরে মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, শেরপুরে মুফতি আনসারুল্লাহ, লক্ষীপুরে মাওলানা ওমর ফারুক স্ব স্ব জেলায় শুক্রবার জুমাবাদ সিরিয়ায় ও শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে দুআ দিবস পালন করা হয়।


