গণমুখী, সৎ নেতাদের সামনে চায় আওয়ামী লীগ

গণমুখী, সৎ নেতাদের সামনে চায় আওয়ামী লীগ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য দলের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা কমিটির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গণমুখী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা। ভোটের আগে সংগঠনের তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে চান শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

দলের দপ্তর সূত্র জানায়, ২১ ফেব্রুয়ারির পর দলের তৃণমূল সম্মেলন শুরু হবে। মার্চের মধ্যে একাধিক বিভাগে তৃণমূল সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতারা।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগেই দল গুছিয়ে ফেলা এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে, এমন নেতাদের নেতৃত্বে আনতে কাজ করবে আওয়ামী লীগ। উদ্দেশ্য হলো একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য এগিয়ে থাকা।

এই নেতারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বড় আকার ধারণ করেছে। দলে এমন বিভেদ নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়া দলের জন্য কঠিন হবে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন হয়। দলের গঠনতন্ত্রে তিন বছর পর জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের বিধান রয়েছে। ফলে এ বছরের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আগামী নভেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সব স্তরে সম্মেলন শেষ করাও একটি কারণ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমরা দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম। ওমিক্রনের কারণে কিছুটা থমকে যেতে হয়েছে। এখন ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধি-নিষেধ আছে। এরপর আমাদের সম্মেলনের কাজ শুরু হবে।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, যেসব নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাঁদের নেতৃত্বে আনা হবে না। বিশেষ করে সরকারের ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করেছেন, এমন জনপ্রতিনিধিরা দলের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমাদের এখন মূল কাজ হলো, তৃণমূল আওয়ামী লীগকে নতুন করে সাজানো, গণমুখী নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসা, সৃজনশীল নেতাদের হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া। ’

সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮ সাংগঠনিক জেলা ও প্রায় ৬৫০ উপজেলা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টির বেশি জেলা ও ৪৫০টির বেশি উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। গত বছর এ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পরে তা থেমে যায়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে জোরেশোরে দল গোছানোর কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিবাদ-মনোমালিন্য নিরসন, ভালো মানুষদের দলে সম্পৃক্ত করার কাজকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ’

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক নেতা জানান, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পাবনা, ২০ ফেব্রুয়ারি নাটোর ও ২৮ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে পাবনা ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল। কভিডের কারণে সে সময় সম্মেলন হয়নি।

৯ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে খুলনা বিভাগ আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মার্চের মধ্যে খুলনা বিভাগের মেয়াদোত্তীর্ণ সব উপজেলা ও থানার সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সম্মেলন আয়োজন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।

জানতে চাইলে খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘খুলনা বিভাগের যেসব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা কমিটির মেয়াদ নেই, সেগুলোর সম্মেলন মার্চের মধ্যে আয়োজনের জন্য বলেছি।’

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই ময়মনসিংহ বিভাগের একাধিক জেলার সাতটি উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৬ মার্চের পর আরো তিন উপজেলার সম্মেলন হবে। আগামী রমজান মাসের আগে ও পরে আরো কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, করোনা এবং কয়েক মাস ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলমান থাকায় সম্মেলন বন্ধ রাখতে হয়। এখন নভেম্বরের মধ্যে সব সম্মেলন শেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে দল গোছানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *