পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আওয়ামী লীগের ‘ফাঁদে’ জনগণ আর পা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এরা (সরকার) গণতন্ত্র ও নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। এখন খুব কথা বলতে শুরু করেছে, আমরা সার্চ কমিটিতে নাম দিইনি কেন? সার্চ কমিটির কার্যক্রম জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা।
বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখেছি, একইভাবে তারা তাদের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য নিজেদের লোকজনকে দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে। এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রকে ধ্বংসে আওয়ামী লীগের সব পরিকল্পনা নষ্ট করে দেবে। অতীতের ঐতিহ্যে নিয়েই তারা আজকে রুখে দাঁড়াবে, অবশ্যই উঠে দাঁড়াবে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সরকার দেশে লুটপাটের অর্থনীতি চালু করেছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এখানে দুর্নীতির অর্থনীতি বললে ছোট করা হয়, একেবারে ডাকাতির অর্থনীতি চালু করেছে। অথচ এরা সারাক্ষণ উন্নয়ন উন্নয়ন বলে চিৎকার করছে। মনে হয় যেন গোটা বাংলাদেশকে তারা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচক ১৭ ধাপ নিচে নামার তথ্য জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজই পত্রিকায় এসেছে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে, তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়ে জরিপ করেছে। সেখানে তারা বলেছে, ১৭৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ১৩৭তম, যা ২০২১ সালে ছিল ১২০তম। বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই যে সূচক নিচে নামছে, ক্রমান্বয়ে নামছে। কারণ, তারা (সরকার) অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রথমে জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করেছে। এরপর মানুষের অর্থনৈতিকসহ অন্য অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। এখানে একটা লুটপাটের অর্থনীতি চালু করেছে। এই যে দুর্নীতি, এটা তাদের মজ্জাগত। এটাকে তারা অপরাধ মনে করে না, মনে করে অধিকার। এসব লুটপাট হচ্ছে তাদের কাছে উন্নয়ন।
স্বাস্থ্য খাত, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব লুটপাট হচ্ছে তাদের কাছে উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ নেতাদের উন্নয়ন হয়েছে, তারা কোটিপতি হয়েছে। বিদেশে বেগমপাড়া তৈরি করছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ চাল-ডাল-তেল-লবণের দাম যে হারে বেড়েছে, কোনো স্বাধীন দেশে এভাবে চলতে পারে না। এটা তো পুরোপুরিভাবে ভেনিজুয়েলা বা নাইজেরিয়ার মতো অবস্থা হয়ে যাচ্ছে। যেখানে অপচয়, অপব্যবহার, দুর্নীতির কারণে এই দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।
বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির উদ্যোগে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় ১২ স্তরে ১২টি বিষয়ে ৪১৯ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে ১৭ জন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৭৯ জন বিজয়ী হন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, করোনা পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। আমরা এখন থেকে মার্চ মাসব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করব। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সঠিক ও প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরব।
রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন-স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, বিএনপির কেন্দত্রীয় নেতা রিয়াজউদ্দিন নসু, আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।


