মুসলিমবিরোধী পম্পেওকেই বেছে নিলেন ট্রাম্প

মুসলিমবিরোধী পম্পেওকেই বেছে নিলেন ট্রাম্প

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে রেক্স টিলারসনকে সরিয়ে দিয়ে সাবেক ক্যানসাস আইনপ্রণেতা এবং সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেওকে মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলাম নিয়ে পম্পেও-এর মাত্রাজ্ঞানহীন বক্তব্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছিল মুসলিম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

রেক্স টিলারসনের জায়গায় পম্পেওকে নিয়ে আসা হচ্ছেÑ গত কয়েক মাস ধরেই এমন জল্পনা ডালপালা ছড়াচ্ছিল। শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্য, কাতার এবং উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেয়া নীতির সঙ্গে একমত হতে পারছিলেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন।

যাইহোক, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার এটিকে বাস্তবে রূপ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একইসঙ্গে মুসলিম আমেরিকানদের দিকে পম্পেওর সন্দেহজনক অবস্থানে মুসলিম নেতৃবৃন্দ এবং তাদের মিত্ররাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

২০১৩ সালে বোস্টন ম্যারাথন বোমা হামলার পর তৎকালীন কংগ্রেসের সদস্য পম্পেও সন্ত্রাসবাদের নিন্দা না জানানোর অভিযোগ এনে মিথ্যাভাবে আমেরিকান মুসলিম সংগঠনগুলিকে অভিযুক্ত করেছিলেন। যদিও মুসলিমরা ওই হামলার জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।

১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর থেকেই মুসলিম গ্রুপগুলির পক্ষ থেকে এই ধরনের নিন্দার অবিচল প্রবাহ সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের ‘সম্ভাব্য সহযোগী’ হওয়ার অভিযোগে পম্পেও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদেরকে অভিযুক্ত করেছিলেন।

বোস্টন হামলার কয়েক সপ্তাহ পর মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তিনি কংগ্রেসে বলেছিলেন, নিন্দা জানানোই যথেষ্ঠ নয়। এটি মুসলিম বিশ্বাসের অনুগামীদের দ্বারা শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টশিয়াল প্রচারাভিযানের সময় আরো একধাপ এগিয়ে তিনি বারংবার অভিযোগ করে বলেছিলেন, আমেরিকান মুসলমানরা তাদের মধ্যেকার সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে সব কিছুই জানেন।

একজন আইন প্রণেতা হিসাবে, পম্পেও মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার জন্য আনীত একটি বিলের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। মিশর ভিত্তিক ইসলামি এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে আমেরিকার ডানপন্থী এই গোষ্ঠীগুলো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছিলেন; যা গত বছর ‘ওয়াশিংটন পোস্ট মুসলিম’ ও আরব বিষয়ক প্রতিবেদক অ্যাবিগেল হাউসলোনার রিপোর্টে এই তথ্য ওঠে এসেছিল।

২০১৬ সালের নির্বাচনের পরে আমেরিকার মুসলিমদেরকে ধারাবাহিক ও ঢালাওভাবে সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কেবল পম্পেওই নয়, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কিছু দিন দায়িত্ব পালন করা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিনও বারবার ইসলামকে ‘ক্যান্সার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

‘মুসলিম ভীতি অত্যন্ত যৌক্তিক’ বলে তিনি দাবি করেছিলেন এবং উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, শরিয়া বা ইসলামি আইন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালে ‘দ্য পোস্ট জোবি’র রিপোর্টার ওয়ারিক এবং হাউসলোনারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছিল। এর আগেও বিভিন্ন ফোরামে পম্পেও বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল।

২০১৫ সালে কানসাসে রিপাবলিকান প্যাচডার্ম ক্লাবে দেয়া ভাষণে পম্পেও মিডল ইস্টে ভ্রমণ সম্পর্কে একটি গ্রুপকে বলেছিলেন, আপনি সেখানে অনেক টমাস জেফারসন খুঁজে পাবেন না। সেখানে কেবল সন্ত্রাসী যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পম্পেও স্টেট ডিপার্টমেন্টে আরো আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে আসবেন। তিনি কিউবায় কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগার চালু রাখার পক্ষপাতী এবং সিআইয়ের নির্মম টর্চারের কৌশলের সমর্থক।

একই সঙ্গে পম্পেও ইরান ও ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলামি’ জঙ্গিবাদকে তার দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে হুমকি বলে মনে করেন। এই সবগুলোই ট্রাম্পের মনোভাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

পম্পেও ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি বাতিল করার পক্ষে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের সমর্থক তিনি। ট্রাম্প আর কিম জং উনের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা দেখা দিলেও রবিবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে ‘কোনো ছাড়’ দেবে না। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *