রোজায় ইনহেলার নেবেন যেভাবে

রোজায় ইনহেলার নেবেন যেভাবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অ্যাজমা, হাপানি ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের ইনহেলার নিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে যারা ইনহেলার নিয়ে অভ্যস্ত তাদের হঠাৎ রমজান মাসে ইনহেলার নেওয়া বন্ধ থাকলে বিপদ হতে পারে। অনেকের মনে প্রশ্ন ইনহেলার নিলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা।

বিশ্বের বহু মুসলিম মনীষী এক সভায় একমত হয়েছেন যে, যদি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের অবস্থা যেমন-অ্যাজমা ও সিওপিডি সমস্যা থাকে এবং সে যখন রোজা রাখে তখন ইনহেলার আকারে নেওয়া অ্যাজমা ও সিওপিডি ওষুধগুলো রোজা ভঙ্গ করে না। বিষয়টি মেডিক্যাল জার্নালেও প্রকাশ হয়েছে। যদি কেউ তার রোজার অংশ হিসাবে সঠিকভাবে ওষুধ গ্রহণ না করাকে বেছে নেন, তবে তার অ্যাজমা ও সিওপিডি লক্ষণগুলো আরও খারাপ হতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শেখ এ এইচএম মেসবাহউল ইসলাম।

কেউ যদি আগে থেকেই ইনহেলার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে রমজানের শুরুতেই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিন। যদি অ্যাজমা ও সিওপিডি-এর জন্য নির্ধারিত ওষুধ খাওয়া বন্ধ করার পরিকল্পনা করে থাকেন তাও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

ইনহেলার ব্যবহারে রোজা ভেঙে যায়-রোগীদের এ দ্বিধা মোকাবিলায় সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ। একটি পদ্ধতি হলো রোগীদের তাদের ইনহেলার ব্যবহারের সময় নিয়ে সাহায্য করা। বেশিরভাগ অ্যাজমা ও সিওপিডি এর প্রতিরোধক ওষুধগুলো দিনে দুবার নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে রোগীরা সেহরির সময় এবং ইফতারের সময় ICS বা ICS+LABA দৈনিক প্রতিরোধক ইনহেলার পুনঃবিন্যাস করতে পারেন।

যেহেতু হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য রোগীদের তাদের প্রতিরোধক ইনহেলার (ICS ও LABA) নির্ধারিত হিসাবে গ্রহণ করা চালিয়ে যেতে হবে। রমজান মাসে প্রতিরোধক থেরাপি মেনে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে চিকিৎসকদের কর্তব্য রোগীদের সচেতন করা বা সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া। রমজান মাসে রোগীদের ধূমপান বন্ধ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে। রোগীরা চাইলে এ সময়টা ধূমপান (যারা করেন) পরিহার করে ইনহেলার ব্যবহারজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *