নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ ● বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনিছুর রহমানকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও ঢাকার ডেমরায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব-১১। এ সময় অপহরণ চক্রের সদস্য সন্দেহে দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুমাইয়া আকতার সুমি ওরফে সাথি (২০), নিলা বেগম (৩৮), শহিদুল ইসলাম ওরফে সাগর (২৭), মাহবুব হাওলাদার (৩৬), মো. ইসমাইল (২৩) ও মো. সেলিম (৩২)।মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আনিছুর রহমান মেহেন্দীগঞ্জের দড়িচর খাজুরিয়া নিছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি ১৩ মার্চ সকালে মাদ্রাসার আলিম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিতে ঢাকার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উদ্দেশে লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চে থাকা অবস্থায় ১৪ মার্চ তাঁর দূর সম্পর্কের নাতনি সুমাইয়া আকতার তাঁকে মুঠোফোনে কল দেন। কুশল বিনিময়ের একপর্যায়ে আনিছুরকে গুলিস্থানে আসতে বলেন সুমাইয়া। এরপর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে তাঁকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া কুতুবপুরের বাসায় নিয়ে যান সুমাইয়া। বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে আটকে পাঁচ ব্যক্তি ও তিন নারী মারধর শুরু করেন এবং কিছু আপত্তিকর ছবি তোলেন। পরে তাঁকে জিম্মি করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তাঁরা। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার জন্য আনিছুরকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তাঁরা। পরে যোগাযোগ হলে আনিছুরের পরিবার ১৪ মার্চ বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাঠায়। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আরও টাকা দেওয়ার জন্য আনিছুরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হন। পরে ১৫ মার্চ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সাইনবোর্ড এলাকায় আনিছুরকে নামিয়ে দেন তাঁরা। পরে পরিবারের সদস্যরা আনিছুরকে উদ্ধার করেন।
র্যাব জানায়, পরিবারের সদস্যরা আনিছুরকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১ বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাব-১১ অভিযান চালায়। মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাকিল আহমেদ ও সিনিয়র এএসপি মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে ফতুল্লা ও ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।


