পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজানুল মুবারাক। এ মাসে প্রত্যেক সক্ষম মুসলিম নর-নারীর জন্য রোজা পালন করা ফরজ। ইসলামের এই অনন্য ইবাদতের অপরিমেয় ফজিলত ও প্রতিদানের কথা কুরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
সহিহ বুখারিতে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারি)
এই হাদিসে রোজার পূর্ণ সুফল লাভের জন্য দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে—ঈমান ও ইহতিসাব। ঈমান ছাড়া কোনো নেক আমলই গ্রহণযোগ্য নয়—এ কথা কুরআনের বহু আয়াতে স্পষ্ট। তবে এখানে ঈমানের সাথে বিশেষভাবে যোগ করা হয়েছে “ইহতিসাব”। এর গভীর তাৎপর্য রয়েছে।
ইহতিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হলো ইখলাস—অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করা। ‘হিসবাতান লিল্লাহ’—শুধু আল্লাহর জন্য আমল করাই প্রকৃত ইখলাস। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য ছাড়া করা আমলের কোনো মূল্য নেই। কুরআনে বলা হয়েছে, যারা পার্থিব স্বার্থে আমল করে, তাদের কাজ ধুলিকণার মতো মূল্যহীন করে দেওয়া হবে (সূরা ফুরকান)।
সূরা কাহফের ১১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।”
তাফসিরে উল্লেখ আছে—এখানে রিয়ামুক্ত ইবাদতের কথা বলা হয়েছে।
সুতরাং রোজা হোক বা সালাত, জাকাত কিংবা অন্য কোনো ইবাদত—মুমিনের লক্ষ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। পার্থিব লাভ, লোকদেখানো বা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ইহতিসাবের আরেক অর্থ সচেতনতা ও আত্মতদারকি। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার বর্জনই শুধু রোজা নয়; বরং সারাদিন এই অনুভূতি জাগ্রত রাখা যে, আমি আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম পালন করছি। তাই মিথ্যা, গিবত, প্রতারণা বা অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
“যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও অন্যায় আচরণ পরিহার করে না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (বুখারি)
অতএব, সিয়ামের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে ইখলাস ও ইহতিসাবের ওপর। নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে, রোজার প্রতিদানও তত অধিক হবে।


