রমযানের শেষ প্রহরে আত্মসমালোচনার আহ্বান

রমযানের শেষ প্রহরে আত্মসমালোচনার আহ্বান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমযানের শেষ প্রহরে এসে অনেকের হৃদয়ে জাগে এক গভীর আত্মসমালোচনা—“হায়! রমযান চলে গেল, কিছুই করতে পারলাম না।” অথচ এই মাস ছিল রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুবর্ণ সুযোগ। এ সময় স্মরণ হয় নবী করীম ﷺ–এর সেই হৃদয়স্পর্শী হাদীসের কথা, যেখানে জিবরাইল (আ.) দুআ করেন—যে ব্যক্তি রমযান পেয়েও ক্ষমা লাভ করতে পারল না, সে হতভাগা। আর রাসূল ﷺ তাতে বলেন, “আমীন” (আল-আদাবুল মুফরাদ: ৬৪৪)।

রমযান কেবল সিয়ামের মাস নয়; এটি কুরআনের মাস, তাকওয়া অর্জনের মাস। কুরআন ঘোষণা করেছে—
“لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ”
অর্থাৎ, রোজা ফরয করা হয়েছে যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করো (সূরা বাকারা: ১৮৩)।

এই মাসের প্রথম রাত থেকেই জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। ঘোষক ঘোষণা করে—
“يَا بَاغِيَ الخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ”
অর্থাৎ, হে কল্যাণপ্রত্যাশী! অগ্রসর হও; হে অকল্যাণের পথিক! বিরত হও (তিরমিযী: ৬৮২)।

বিশেষত শেষ দশক—লাইলাতুল কদরের সন্ধানে—ছিল সর্বোচ্চ মুজাহাদার সময়। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, শেষ দশক শুরু হলে নবী ﷺ নিজে জেগে থাকতেন, পরিবারকে জাগাতেন এবং ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন (বুখারি: ২০২৪)।

তবুও বাস্তবতা হলো—অনেকে ঈদের প্রস্তুতির ব্যস্ততায় শেষ দশকের ইবাদতে শৈথিল্য দেখান। অথচ কুরআন সতর্ক করে—
“وَلَا تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا”
অর্থাৎ, সেই নারীর মতো হয়ো না, যে সুতা পাকানোর পর তা খুলে ফেলেছিল (সূরা নাহল: ৯২)।

রমযান শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আমাদের আমল কবুল হলো কি না? ইবনে মাসউদ (রা.) ঈদের দিন বলতেন, “কে কবুল হলো—তাকে অভিনন্দন; আর কে বঞ্চিত—আল্লাহ তার ক্ষতিপূরণ করুন।”

শেষ প্রহরের আফসোস যেন না থাকে—এটাই হোক আগামী রমযানের জন্য নতুন সংকল্প।

Related Articles