পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই অমূল্য, কিন্তু এর ভেতরেও বিশেষ তিনটি দশক রয়েছে—প্রথমটি রহমতের, দ্বিতীয়টি মাগফিরাতের, আর শেষটি নাজাতের। রহমতের দশক কেটে গেছে, এখন আমরা প্রবেশ করেছি মাগফিরাতের দশকে। এটি সেই সময়, যখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ডেকে বলেন, “ফিরে এসো, আমি অপেক্ষায় আছি।”
এই দশক শুধু ক্ষমা চাওয়ার নয়, বরং গুনাহ থেকে সত্যিকারের মুক্তি পাওয়ার সময়। আমরা জানি, মানুষ মাত্রই ভুল করে, কিন্তু সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ফিরে যায়। এই সময়টুকু যদি অবহেলা করি, যদি আল্লাহর দরবারে মাথা নত না করি, তাহলে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সুযোগ পাব তো?
কেন মাগফিরাতের দশক এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই সময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য ক্ষমার দরজা প্রশস্ত করে দেন। একটিবার যদি সত্যিকারের অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে হাত তুলি, তিনি আমাদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিতে প্রস্তুত। এই মাগফিরাতই আমাদের জান্নাতের পথে এগিয়ে দেবে, কারণ যে আল্লাহর ক্ষমা পেয়ে যায়, তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই সুন্দর হয়ে যায়।
হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন—রমজান এমন এক মাস, যেখানে ইমান ও আত্মসমর্পণের সঙ্গে ইবাদত করলে আল্লাহ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। এ কথার মধ্যে কী অপার ভালোবাসা লুকিয়ে আছে! আল্লাহ যেন বলতে চান, “তোমরা ফিরে এসো, আমি তোমাদের অতীত ভুলে যেতে প্রস্তুত!”
এখন আমাদের কী করা উচিত?
এই দশকে আমাদের করণীয় হলো নিজের সব ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে, একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া।
– বেশি বেশি করে ইস্তিগফার বলা—”আস্তাগফিরুল্লাহ! রাব্বিগ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম”
– গভীর রাতে তাহাজ্জুদের সিজদায় চোখের পানি ফেলা
– দান-সদকা করে নিজের গুনাহ মোচনের ব্যবস্থা করা
– কোরআনের আয়াতগুলোর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা
মাগফিরাত না পেলে কী হবে?
একটি হাদিসে আছে, “ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে রমজান পেল, কিন্তু নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না!” ভাবুন তো, আল্লাহ যদি আমাদের ক্ষমা না করেন, তাহলে কে করবে? এই সুযোগ হাতছাড়া করা কি সত্যিই বুদ্ধিমানের কাজ হবে?
আসুন, আমরা এই মাগফিরাতের দিনগুলোকে বৃথা না যেতে দিই। আল্লাহর কাছে ফিরে যাই, কাঁদার অভ্যাস করি, তাঁর দয়ার ছায়ায় নিজেকে সঁপে দিই। এই মাসের প্রতিটি রাতই ক্ষমার দরজা খুলে রাখে, শুধু দরকার একটু অনুতপ্ত হৃদয়।
আজ রাতেই হয়তো আল্লাহ আমাদের ডাক দেবেন, হয়তো এটাই আমাদের জীবনের শেষ রমজান। তাই এই সময়টাকে কাজে লাগাই—আল্লাহর ভালোবাসায় সিক্ত হই, যেন শেষ দশকে প্রবেশ করার আগেই আমাদের গুনাহগুলো মাফ হয়ে যায়।


