পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমজানের শেষ দশকে বহু মুসল্লি মসজিদে ইতেকাফে বসেন। এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। ইতেকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে আল্লাহর ইবাদতে একাগ্র হওয়া। তাই ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদের ভেতরে কী করা উচিত এবং কী থেকে বিরত থাকা উচিত—সে বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা জানা জরুরি।
ইতেকাফকারী ব্যক্তির প্রধান কাজ হলো ইবাদতে সময় ব্যয় করা। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার, দরুদ শরিফ ও দোয়া করা ইতেকাফের অন্যতম আমল। পাশাপাশি কুরআনের তাফসির, হাদিস বা দ্বীনি কিতাব অধ্যয়ন করাও ইতেকাফের সময়ের উত্তম ব্যবহার। লাইলাতুল কদরের সন্ধানে শেষ দশকের রাতগুলোতে বিশেষভাবে ইবাদতে মনোযোগী হওয়া সুন্নত।
এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী দ্বীনি আলোচনা, নসিহত বা ইলম অর্জনের কাজ করা যেতে পারে। তবে এসব যেন ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে না নেয়।
অন্যদিকে কিছু কাজ ইতেকাফের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, হাসি-তামাশা, গল্পগুজব বা দুনিয়াবি আলোচনায় সময় নষ্ট করা ইতেকাফের রূহকে দুর্বল করে দেয়। মোবাইল ফোনে অযথা সময় ব্যয় করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজে জড়িয়ে পড়াও পরিহার করা উচিত।
শরিয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হওয়া ইতেকাফ ভঙ্গের কারণ হতে পারে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ইতেকাফের সময় একজন মুমিনের মনে সবসময় এই অনুভূতি জাগ্রত থাকা উচিত যে, তিনি আল্লাহর ঘরে অবস্থান করছেন এবং তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদতে মশগুল আছেন। এ সময় আত্মশুদ্ধি, তওবা-ইস্তিগফার এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করাই ইতেকাফের মূল লক্ষ্য।
সুতরাং ইতেকাফের সময় প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করে ইবাদত, জিকির ও আত্মসমালোচনায় ব্যয় করাই একজন মুসলিমের জন্য সর্বোত্তম পথ।


