ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম

ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম

  • আদিল মাহমুদ

একটা সকাল এসেছে, খুব ধীরে ধীরে, যেনো ঘুম ভেঙে ওঠেছে কোনো মহাজাগতিক অন্ধকার। আকাশের কোণে নরম সূর্যের প্রথম রেখা স্পর্শ করে—সেদিকে তাকিয়ে আছি। চোখে এলোমেলো স্বপ্নের সারি, যেগুলো প্রায় হারিয়ে গিয়েছিলো।

আল্লাহর নামের ধ্বনি, গলার ভেতর এক অবিনশ্বর আওয়াজ, পাখির ডাকের সঙ্গে মিশে যায়—আকাশ, বাতাস, পৃথিবী, সবই তাঁর। তাঁর মুকুটে রয়েছে অশেষ দয়া, অসীম করুণা, পৃথিবীর প্রতিটি বিন্দু তাঁর প্রদত্ত অনন্ত প্রেমের চিহ্ন।

এই সৃষ্টির নিখুঁত সুষমা, যেনো অপ্রকাশিত কবিতা। কখনো পাখির ডানা, কখনো সমুদ্রের ঢেউ, কখনো পাহাড়ের চূড়া, কখনো বা হৃদয়ের গহীনে থাকা ছোট্ট শূন্যতা—এগুলোর সবকিছু সেই অলৌকিক সত্তার ছোঁয়া।

প্রতিটি নক্ষত্র, প্রতিটি ফুল, প্রতিটি রক্তবিন্দু, প্রতিটি বৃষ্টিফোঁটা—সবই যেনো তাঁর অশেষ রহমতের অংশ। কিন্তু আমি কোথায়? আমি তো ভ্রান্ত। কখনো মনের গহীনে, কখনো পথের মাঝখানে—যেনো হারিয়ে গেছি। কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। আত্মা কোথায় চলে যাচ্ছে? কেন এতো একাকীত্ব, কেন এতো অবসাদ?

মনে হয়, যেনো অজানা অন্ধকারে একটানা হাঁটছি, জানি না কোথায় যাবে পথ। পৃথিবীর সৌন্দর্য, পৃথিবীর আকাশ—এসব কিছুই দূর থেকে সোনালী আলোয় একাকার হয়ে যাচ্ছে। যেমন শিশিরবিন্দু সূর্যের প্রথম কিরণ পেয়ে বাতাসে মিশে যায়, তেমনি আমি, আমার ছোট জীবন—যেনো সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত কোনো শস্য, যে শস্যটি কখনো তাঁর উৎস খুঁজে পাবে না, কখনো তাঁর গন্তব্য জানবে না।

অথচ এই অন্ধকারে, এই খোঁজার মাঝে—তবে কি সে শুদ্ধ পথ, যে পথ আমার কাছে এখনও সজীব, সে পথ কি কখনো দেখা যাবে? একা একা হারিয়ে না গিয়ে—কীভাবে ফিরে আসবো সেই পথে। যেখানে আল্লাহর আলো স্নিগ্ধ হয়ে উঁকি দেয়। সেই আলো, সে পথের সঙ্গী হতে চাই।

যতটুকু জানি, এই আলো কখনো হারিয়ে যায় না। যখন একা, নিঃসঙ্গ, কোথাও মৃদু আলো পেতে চাই—এমন কোনো সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করি, তখন মনে হয়, অদৃশ্য কোনো শক্তি যেনো পাশে আছে। সেই শক্তি আল্লাহ রহম, যিনি প্রতিটি মুহূর্তে পথ দেখান।

আমি, আমার ক্ষুদ্র প্রাণ সে পথেই হাঁটবো, যে পথে হাঁটলে, হারিয়ে যাবো না—যে পথে তাঁকে খুঁজে পাবো। যে পথে, সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ওঠবো এবং আকাশে মিশে যাবো। যে পথে, ফুলের পাপড়ির মতো আত্মসমর্পণ করবো এবং সেই পথের শেষের কোথাও অন্ধকার থেকে—এক আলোর মহাসমুদ্রে পরিণত হবো।

দেখো, ওই দূরে, আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে—দৃষ্টি হারিয়ে, অতৃপ্ত ঝড়, তুমুল বৃষ্টি থেমে গেছে। পিপাসার তরঙ্গ গলা অবধি পৌঁছেছে। কিন্তু, অমাবস্যার মাঝে, ছায়ার গভীরে, অন্ধকারেই ফিকে আলোর মতো কিছু একটা গাঢ় হয়ে ওঠেছে—গহীন শান্তি, স্নিগ্ধ শক্তি।

যতটুকু জানি, এই আলো কখনো হারিয়ে যায় না। যখন একা, নিঃসঙ্গ, কোথাও মৃদু আলো পেতে চাই—এমন কোনো সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করি, তখন মনে হয়, অদৃশ্য কোনো শক্তি যেনো পাশে আছে। সেই শক্তি আল্লাহ রহম, যিনি প্রতিটি মুহূর্তে পথ দেখান।

অথচ, শান্তি এই যাত্রার একমাত্র লক্ষ্য নয়, শান্তি কেবল পথের দিক—অথবা পথের মধ্যে শান্তির আগমন। এটাই সেই গন্তব্য যেখানে আল্লাহ বলেন—‘তুমি ফিরে আসবে, ফিরে আসবে আমার কাছে’। এক সেতু তৈরি হবে, তুমি যেখানে থাকতে, সেখানে আমি তোমার কাছে আসবো। সেই সন্ধানী পথ, শুদ্ধ, এক সত্য, এক লক্ষ্য—বাকি সব কিছুই নিছক বিভ্রান্তি।

তবে জানি, এই সন্ধান সহজ নয়। কতো কষ্ট, কতো অস্থিরতা, কতো হারানো দিন—এক একটা বিকেল নেমে আসে, প্রতিটি রাত যেনো নিঃসঙ্গ হাহাকার। হৃদয়ের ভেতর অদ্ভুত সুর, যেনো কেউ নিঃশব্দে ডেকে যাচ্ছে, কিন্তু শুনতে পাই না। এ যেনো এমন শূন্যতা, যেখানে হারিয়ে গেছি—তবুও, কোথাও যেনো একজন আছেন, যার রহমত ও দয়া, আমাকে তলিয়ে যেতে দেয় না।

হ্যাঁ, এটাই সেই পথ—যে পথে আল্লাহর কৃপা প্রতিটি ধাপে সঙ্গী। তাঁর করুণা, তাঁর সৌন্দর্য, এসব কিছু হৃদয়ে আলো ছড়িয়ে দেয়। যেভাবে মেঘটুকরো বাতাসে ভাসতে ভাসতে হালকা হয়ে যায়, ঠিক তেমনই যখন একান্তে তাঁর দিকে পা বাড়াই, তখন আত্মার উপর অমোঘ শান্তি নেমে আসে। তিনি মনে করিয়ে দেন, আমি একমাত্র নই, আমার সবকিছুই তাঁর কাছে—প্রকৃতি, সৌন্দর্য, সৃষ্টির প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ।

জানি, এই পথ সহজ নয়—অন্ধকারের মাঝ দিয়ে যেতে হতে পারে। পাহাড়ের মতো কঠিন, সমুদ্রের মতো অসীম। আমি একা হাঁটছি না। তাঁর রহমত পাশে রয়েছে, প্রতিটি পদক্ষেপে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে। একপাশে দুর্দান্ত ঝড়, অন্যপাশে সূর্যের আলো—এমন সময় যখন মনে হয় পৃথিবী থেমে গেছে, তখন সেই পথটি হাঁটিয়ে নিয়ে যায়, এক সুরে, এক ছন্দে।

কখনো কখনো সেই পথ হারিয়ে ফেলি। কখনো আত্মবিশ্বাস ক্ষয় পায়, যখন দুনিয়ার সবকিছু অন্ধকার হয়ে ওঠে। যেনো অপার্থিব অন্ধকারের মাঝ দিয়ে যাচ্ছি। তবুও, সেই পথের আলো, সেই স্নিগ্ধতা, সেদিকেই ফিরে যেতে হয়—সে পথই শুদ্ধ পথ, ‘সিরাতে মুস্তাকিম’। এই পথটির শেষ কোথায়—যে পথে পৌঁছালে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে? প্রশ্ন আসতেই থাকে, কিন্তু প্রতিটি প্রশ্নের মধ্যে অজানা আশার আলো দেখি।

জানি, এই পথে কখনো অন্ধকারের মধ্যে হোঁচট খেতে হবে। তবে যখন বুঝতে পারবো, আমি একা নই—হৃদয়ের গভীরে অমিত শক্তি রয়েছে, যা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যাবে—তখন, প্রতিটি মুহূর্ত নতুন আলো বয়ে আনবে। এই আলো কেবলই আল্লাহর কৃপা।

সৃষ্টির প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশেও তিনি আছেন—সেই মহাশক্তি, যার হাতে সমস্ত কিছু। আমি এক পথিক, একটি ছোট্ট মাটির টুকরা, কিন্তু তাঁর কাছে, একটি বিরাট সৃষ্টির অংশ। তাঁর সৌন্দর্য দেখছি, তাঁর মহিমা অনুভব করছি।

যখন পৃথিবী ধ্বংসের মতো অচল, অন্ধকার, তখনও বিশ্বাস করি—তিনি আছেন। তিনি আছেন করুণার মধ্যে, শান্তির মধ্যে, পথ দেখানোর জন্য। যে পথে প্রতিটি মুহূর্তে একজন পথিক তার পথ খুঁজে পায়। সেই পথে হাঁটবো, যদিও মাঝে মাঝে মনে হয় পথ অপ্রকাশিত, কখনো মেঘে ঢাকা, তখনও জানি, সেই পথ রয়েছে—তিনিই সেই পথপ্রদর্শক, তিনিই সেই অনন্ত আলো। এটাই আমার বিশ্বাস।

একদিন সেই পথ আমার কাছে আসবে। যার এক পাশে আলো, অন্যপাশে অন্ধকার—যার মাঝে কখনো বৃষ্টি, কখনো ঝড়, কখনো বা নিরবতা। তবুও প্রতিটি মুহূর্তে সেই পথ আমাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে যায়।

প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি দৃশ্য—বুঝতে পারি, এসবই তাঁর নিঃশব্দ শিক্ষা। যখন হারিয়ে যাই, তখন তিনি খুঁজে বের করেন—যেমন সূর্য যখন ডুবে যেতে থাকে, তাঁর প্রতিফলন যেনো রাতের আকাশে রেশ রেখে যায়, তেমনি তাঁর শিক্ষা আমাকে, কখনো দেখা না দিলেও গভীর আলো দিয়ে সঙ্গ দেয়।

পৃথিবী যেনো বিরাট মহাকাশ—এখানে একত্রে সবকিছুই আলোর মাঝে মিশে যায়। আল্লাহর কৃপা যেনো অসীম নক্ষত্রের মতো আকাশে। আর আমি, তাঁর সৃষ্টি, এক ক্ষুদ্র মাটি, এক কণা—অথচ, তাঁর করুণা, তাঁর আদেশ, আমার জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠেছে।

মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি কি সেই পথ বুঝতে পারবো? আমার পথ, স্রেফ আমার না, এটি যেনো আমাদের সকলের পথ। এই পথের মধ্যে আলো, অন্ধকার, প্রশান্তি, অভিমান—সব কিছু রয়েছে। বিশাল মহাবিশ্বের মতো, এখানে সকলের স্থান—প্রত্যেকের আলাদা যাত্রা, কিন্তু সবাই এক মহান সত্তার দিকে ফিরে আসে। এটাই তো সেই পথ, যখন আল্লাহ বলেন, ‘তুমি একবার আমায় ডাকো, আমি তোমার কাছে আসবো’—অথবা, ‘তুমি আমার কাছ থেকে কিছু চাইলে, আমি তোমাকে তা অবশ্যই দেবো।’

এখন যখন দাঁড়িয়ে আছি পৃথিবীর এক কোণায়, তাকিয়ে দেখি বিশাল আকাশ, মনে হয় যেনো সব কিছু থমকে দাঁড়িয়ে আছে। এই পৃথিবীর প্রতিটি চিত্র—যেনো গোপন রহস্য, আদিম সুরের গান। তবে, সেই গানের সুর কি ঠিক মনে রাখতে পারি? প্রতিটি চাহনি, প্রতিটি পথ—অনন্ত সুরের মতো, যা কখনো থামে না, কখনো মরে না। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার—চোখের সামনে মেঘের মতো ভেসে যাওয়া সেই পথের বর্ণনা যেনো ঠিক বোঝা যায় না।

আল্লাহর পথে হাঁটার সময়, কখনো কখনো মনে হয়, সব কিছু অজানা স্তরে চলে গেছে। জীবন যখন অন্ধকারে ঢুকে পড়ে, তখন কোথা থেকে যেনো স্নিগ্ধ আলো প্রকাশিত হয়। এই আলো একান্ত নিজের, অমিত শক্তি—যেটি জানে না কতো দূর যাবে, কতো বিস্তৃত হবে, কিন্তু তবুও কিছু একটা প্রকাশিত হতে থাকে, যা সেই সন্ধানী পথের দিকে ধাক্কা দেয়। ওই পথটি যেনো আলোর গাছ, যা হঠাৎ এক স্নিগ্ধ শীতল হাওয়ার মতো সঙ্গ দেয়, যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে থাকি।

একদিন সেই পথ আমার কাছে আসবে। যার এক পাশে আলো, অন্যপাশে অন্ধকার—যার মাঝে কখনো বৃষ্টি, কখনো ঝড়, কখনো বা নিরবতা। তবুও প্রতিটি মুহূর্তে সেই পথ আমাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে যায়। আমি ক্ষুদ্র মাটির টুকরা, যেনো সেই মহাজাগতিক নক্ষত্রের দিকে এগিয়ে যাই, যেখানে সূর্যের আলোর মতো তাপ ও শান্তি মিশে থাকে।

মাঝে মাঝে মনে হয়, এই পথ চলার মধ্যে কোথাও কোনো বাঁক থাকতে পারে, কোনো ভয় থাকতে পারে, কোনো অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তার মাঝেও জানি, এক জায়গায় পৌঁছালে আল্লাহর রহমত আমাকে তাঁর কাছে পৌঁছে দেবে। এক আশ্বাস—যেখান থেকে কোনো চিহ্ন হারিয়ে যায় না, শুধু তাঁকেই খুঁজে পাওয়া যায়।

মনে হয়, জীবন যেনো এক পুঞ্জীভূত প্যাজলের মতো। প্রতিটি অংশ আলাদা, তবে প্রতিটি অংশের মধ্যে আধ্যাত্মিক সুত্র জড়িয়ে আছে। মানুষ, প্রাণী, প্রকৃতি—সবকিছুই একযোগভাবে কাজ করে, এক জাল বোনে। একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তাঁর রহমতের পরিপূর্ণতা। এই সৃষ্টির প্রতিটি দিক, প্রতিটি জিনিসের মধ্যে আমরা সেই মহাশক্তিকে অনুভব করি, যেমন ভোরের প্রথম রশ্মি সমস্ত আকাশকে আলোকিত করে।

আল্লাহর অনুগ্রহে ভেতরের অন্ধকারের সমস্ত বাঁধন তিনি নিজের হাতে খুলে দেন। যখন দুঃখ বা কষ্টে ভুগি, তখন মনের মধ্যে শুধু একটা কথা শোনা যায়—‘আমার সমস্ত কষ্ট আল্লাহর পথে সওয়াব হয়ে যাবে’। তাঁর দয়া এবং রহমত সেই কষ্টের মাঝেও শান্তির দিকে নিয়ে আসে। সব কিছু এক হয়ে আমার জীবনে তাঁর আদর্শ পূর্ণ করে তোলে।

এই পথের আলো অনেক দূর, অনেক গভীরে—এটি বিস্ময়কর অনুভূতি, নিরবতার মাঝেও বিশাল গান। এই গানের সুরে যেনো চুপিচুপি ঢুকি, আর সেই সুর আমাকে নিয়ে যায় অনন্তকালের দিকে। সেই সুরে কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ি না, কখনো থামি না—নিরন্তর যাত্রা। এই পথ পৃথিবীর সকল পথের চেয়ে প্রশস্ত হয়ে প্রশান্তির দিকে চলে যায়।

জীবন, এটা যেমন অনিশ্চিত পথ, তেমনই এক অপূর্ব আশার। পৃথিবী যতোই পরিবর্তনশীল হোক না কেন—জানি, আল্লাহর পথে চলে, আমার পথ সঠিক হয়ে ওঠবে। জীবনের সমস্ত পথযাত্রা যেনো এক সেতু, যা আমাকে আল্লাহর সাথে সংযুক্ত করে। প্রতিটি পদক্ষেপে, তিনি আমাকে নতুনভাবে জীবন দেখেন।

আমার ক্ষুদ্র, ক্ষণস্থায়ী জীবনকে তিনি বিশালতা, গভীরতা দিয়ে পূর্ণ করেন। পৃথিবী আমাকে শিখিয়েছে, যখন মন অস্থির হয়, যখন পথ বাঁধাপ্রাপ্ত হয়, তখন কেবল আল্লাহই সাথে থাকেন, কেবল তাঁর সান্নিধ্যেই শান্তি খুঁজে পাই।

যতোই অন্যত্রে খোঁজ করি না কেন, পৃথিবী, আকাশ, অগ্নি, বাতাস—সব কিছুই এক হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তখন বুঝতে পারি, প্রত্যেকটি প্রাণী, প্রত্যেকটি সত্ত্বা, তাদের সকল জীবনের অঙ্গীকার আল্লাহর প্রতি এক গভীর আত্মসমর্পণ। তাঁর মহান রহমত ছাড়া কিছুই পূর্ণতা পায় না।

মনে হয়, পৃথিবী যতোই ছুটুক, তবুও আমি ঠিক এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি—সে জায়গায় তাঁর অনুগ্রহ আছে। জীবন যা কিছু দেবে, নিতে প্রস্তুত। তাঁর কৃপায় সব কিছু গ্রহণ করবো। কারণ, সকল বিপদ, সকল তিরস্কার, সব কিছু তাঁর ইচ্ছার অধীনে। তাঁর পথে সব কিছু মেনে নিয়েছি। সামনে যতোই অন্ধকার আসুক, আল্লাহের আলোকরশ্মি সঠিক পথে নিয়ে যাবে।

এই পথ চলতে চলতে অনুভব করি, পৃথিবী এক অনন্ত শিক্ষার স্তর দিয়ে নিয়ে যায়, যেখানে আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দয়া প্রতিটি সৃষ্টিতে বিরাজিত থাকে। চোখ খুলে যায়, যখন বুঝতে পারি—অন্তর যদি আল্লাহর কাছে সমর্পিত হয়, তাহলে পৃথিবীর যে কোনো রূপ যেনো নিস্পৃহ হয়ে যাবে।

যখন আল্লাহর দিকে ফিরে যাবো, তখন জানবো—এ পৃথিবী আমার নয়, কিন্তু আমার অন্তর তাঁরই।

আল্লাহর অনুগ্রহে ভেতরের অন্ধকারের সমস্ত বাঁধন তিনি নিজের হাতে খুলে দেন। যখন দুঃখ বা কষ্টে ভুগি, তখন মনের মধ্যে শুধু একটা কথা শোনা যায়—‘আমার সমস্ত কষ্ট আল্লাহর পথে সওয়াব হয়ে যাবে’। তাঁর দয়া এবং রহমত সেই কষ্টের মাঝেও শান্তির দিকে নিয়ে আসে। সব কিছু এক হয়ে আমার জীবনে তাঁর আদর্শ পূর্ণ করে তোলে।

এভাবে যখন জীবনের প্রতি মুহূর্তকে আল্লাহর সান্নিধ্যে দেখি, তখন পৃথিবীর সমস্ত কঠিন পথ প্রশান্তির পথ হয়ে ওঠে। জানি, প্রতিটি ধাপে তিনি শক্তি দিয়েছেন। এই শক্তি, এই সাহস—এগুলো শুধুমাত্র তাঁর রহমতের মাধ্যমে আসে। যখন এক মুহূর্তের জন্য ভুল পথে চলে যাই, তখন আল্লাহ ফিরিয়ে আনেন। যেমন পাখি বাসা ছেড়ে চলে গলে, আবার ফিরে আসে—ঠিক তেমনি আল্লাহর পথে ফিরে আসি। তিনি আমাকে ক্ষমা করেন, আমাকে গ্রহণ করেন। তাঁর রহমতে নতুন জীবনে খুঁজে পাই।

যখন আল্লাহর দিকে ফিরে যাবো, তখন জানবো—এ পৃথিবী আমার নয়, কিন্তু আমার অন্তর তাঁরই। একদিন সেই পৃথিবী থেকে দূরে, এক নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করবো, যেখানে কেবল শান্তি, ভালোবাসা, আল্লাহর রহমত থাকবে। সেখানে কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না, কোনো দুঃখ থাকবে না, কেবল অমিত শান্তির সুর বাজবে।

এভাবেই জীবনের শেষ পথটুকুও আল্লাহর রহমত দিয়ে পূর্ণ হবে। তিনি যখন গ্রহণ করবেন, তখন বুঝবো—এটাই জীবনের সত্যিকারের পরিপূর্ণতা। জানবো—তাঁর পথে চলতে চলতে, কখনো হারাবো না, কখনো একা থাকবো না। তাঁর সান্নিধ্যে থেকে চিরকালিত শান্তি পাবো। তাঁর দয়া, তাঁর প্রেম—এটাই একমাত্র পথ। সেই পথে চলবো, সে পথেই শান্তি, জীবনের পূর্ণতা পাবো।

আদিল মাহমুদের আরও কিছু লেখা পড়ুন:

Related Articles