পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: জার্মানির মসজিদগুলোতে এতদিন তুরস্ক থেকে প্রশিক্ষিত ইমামদের নিয়োগ দেওয়া হতো। এখন থেকে তুরস্কে প্রশিক্ষণ নেওয়া ইমামদের আর নিচ্ছে না জার্মানি। পরিবর্তে জার্মানদেরই ইমাম হিসেবে প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে।
সম্প্রতি জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ইমাম প্রশিক্ষণের বিষয়ে তুরস্কের সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। তুরস্কের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দিয়ানেট ও ডিটিটিবির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী, প্রতি বছর পশ্চিমাঞ্চলীয় জার্মান শহর ডালেমে একশজন জার্মানকে ইমামের প্রশিক্ষণ দেবে তুরস্ক।
জার্মানিতে এখন তুরস্কের এক হাজারজন ইমাম আছেন। তাদের পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নতুন প্রশিক্ষিতদের নিয়োগ করা হবে। যাদের সরানো হবে, তাদের দিয়ানেট অন্যত্র নিয়োগ দেবে।
এ বিবৃতিতে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “আমরা এমন ধর্মীয় নেতা চাই, যারা আমাদের দেশকে জানে, আমাদের ভাষায় কথা বলে এবং আমাদের মূল্যবোধেকে সমর্থন করে। আমরা চাই ইমামরা বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সমাজে বিশ্বাস তৈরি করুন।”
জার্মানির ইমাম কনফারেন্স জানিয়েছে, জার্মানিতে ৫৫ লাখ মুসলিম বাস করেন। তারা মোট জনসংখ্যার ৬.৬%। তাদের মতে, নতুন সিদ্ধান্ত জার্মানির মুসলিমদের মিলন ও যোগদানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে।
জার্মানিতে আড়াই হাজার মসজিদ আছে। তার মধ্যে নয়শ মসজিদ ডিটিটিবি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিটিটিবি হলো তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্য়াফেয়ার্সের একটি শাখা। তারাই জার্মানিতে সবচেয়ে বড় ইসলামিক সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা তুরস্ক সরকারের কথায় ওঠাবসা করে।
সাম্প্রতিক বিতর্ক
ডিটিটিবি-কে নিয়ে সম্প্রতি একটি বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। কোলনের একটি মসজিদে একজন আফগান তালেবান সদস্য গত মাসে ভাষণ দিয়েছিলেন। এর জেরেই বিতর্ক শুরু হয়।
২০১৭ সালে জার্মান কর্মকর্তারা ডিটিটিবিকে মৌলিক সংস্কার করতে বলেন। তখন অভিযোগ উঠেছিল, তারা যে ইমামদের নিয়োগ করে, তারা তুরস্কের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। তুরস্কে এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এই অভিযোগ ওঠে। দিয়ানেট অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরদোয়ান সরকারও জানিয়েছে, তারা এই নিয়ে তদন্ত কমিটি করেছিল। কিন্তু সেই কমিটি জানিয়েছে, এমন কোনো তথ্যই নেই।
সাবেক চ্যান্সেলর মার্কেল ২০১৮ সালে প্রথমে জার্মানিতে জার্মান ইমামদের প্রশিক্ষণের কথা বলেন। তার যুক্তি ছিল, এই পদক্ষেপ জার্মানিকে এই বিষয়ে আরও স্বাধীন করবে। বিষয়টিকে তিনি জার্মানির ভবিষ্যতের জন্য জরুরি বলেও অভিহিত করেছিলেন।
সূত্র: ডয়চে ভেলে


