- আদিল মাহমুদ
মাবুদ, কেবল শান্তি চাই। এমন শান্তি—যা এই পৃথিবীর যাবতীয় ক্লান্তি ও যন্ত্রণার মাঝে বুকের ভেতর স্নিগ্ধতার মতো বয়ে যায়। যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস হয়ে ওঠে আরামের পাথেয়।
জীবন স্রোত যেনো বয়ে নিয়ে চলে—এমন গভীর সহিষ্ণুতার দিকে, যেখানে কোনো হাহাকার নেই, অপূর্ণতা নেই। শুধু প্রাপ্তি, পরিপূর্ণতা। যেনো আকাশের মেঘের মতো কোনো ব্যথা ছুঁয়ে না দেখি। মনোরম সুস্থিতির আলোয় উড়তে পারি।
তামাম ক্ষণস্থায়ী যন্ত্রণা, শূন্যতা, দুঃখ-কষ্টের বাইরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দাও, যেনো প্রতিটি ক্ষণকে কেবল তোমার সাথে এক অমল সহানুভূতিতার সাথে হাঁটতে পারি। হৃদয়ে একমাত্র তুমি, তোমার উপস্থিতিতেই যেনো শান্তি চিরকাল স্থায়ী।
দাও এই দুনিয়ার এমন শুদ্ধতা—যেখানে প্রতিটি কাজ, প্রতিটি চিন্তা অনন্য আয়েশের সঙ্গীত হয়ে বাজে। প্রতিটি পদক্ষেপ যেনো নতুন সূর্যোদয়। অন্তরে থাকে তোমার প্রেরণা, সংকল্পে থাকে ন্যায়ের চিহ্ন। কেউ কারো উপর কোনো দুঃখের ছায়া ফেলে না। মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বললে মনে হবে, পৃথিবীটাই হয়ে গেছে শান্ত, নীরব, পূর্ণ।
যদিও জানি, দুনিয়া তার সমস্ত রূপ নিয়ে অস্থির। তবুও চাই, এই অস্থিরতার মাঝেও সেই শান্তি প্রশান্তির পথে নিয়ে যাও—যেখানে সময় কোনো সীমায় বাঁধা থাকে না, শুধুই সমঝোতার নিরবতা, মনের সুস্থতা।
তামাম ক্ষণস্থায়ী যন্ত্রণা, শূন্যতা, দুঃখ-কষ্টের বাইরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দাও, যেনো প্রতিটি ক্ষণকে কেবল তোমার সাথে এক অমল সহানুভূতিতার সাথে হাঁটতে পারি। হৃদয়ে একমাত্র তুমি, তোমার উপস্থিতিতেই যেনো শান্তি চিরকাল স্থায়ী।
চাই না, শাস্তির মধ্যে ফেলে দিয়ে পৃথিবী আমাকে ভুলে যাক। চাই, তুমি অমল রহমত দাও—যেনো আমি আখিরাতের জীবনে তোমার কাছে ফিরে যেতে পারি। আমার শরীর, আত্মা, শুধু তোমার সান্নিধ্যে শান্তিপূরক হয়ে যাবে।
চাই না কোনো বিভেদ, বিচ্ছিন্নতা, প্রতিহিংসা—বরং পৃথিবী যেনো আকাশের নীরব গান হয়ে ওঠে। যেখানে প্রতিটি মানুষ একে অপরকে ভালোবাসবে। চাওয়া-পাওয়ার পরিসীমা বন্ধুত্ব, সম্মানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এমন পৃথিবী, যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস যেনো নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আসে। কোনো পাপ, কোনো ভুল, কোনো অশান্তি নেই—সবাই এক হয়ে হৃদয়ে প্রেম নিয়ে, তোমার রহমতকে উপলব্ধি করে। তোমার ভালোবাসা, তোমার আস্থা, একে অপরকে ধরে রাখা, যেনো জীবনের সবচেয়ে মধুর বাস্তবতা।
মাবুদ, চাই না সেই আগুনের শিকার হতে—যেখানে প্রতিটি চিত্রনাট্য রক্তে ভেসে যায়, আকাশ ভেঙে যায়, কোনো আশ্রয় নেই। চাই না, সেই শাস্তির অগ্নিতে আত্মা ক্ষত-বিক্ষত হোক, যেখানে প্রার্থনা বা কষ্ট কোনো ফল দেয় না।
সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যেনো কেবল তোমার রহমতের স্নিগ্ধ ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারি, তোমার সান্নিধ্যে থাকি। সেই আগুনের উত্তাপ যেনো—আমার থেকে দূরে থাকে, কেবল তোমার ভালোবাসা, তোমার করুণা, এবং তোমার সহমর্মিতা আমাকে আবদ্ধ রাখে।
চাই না, শাস্তির মধ্যে ফেলে দিয়ে পৃথিবী আমাকে ভুলে যাক। চাই, তুমি অমল রহমত দাও—যেনো আমি আখিরাতের জীবনে তোমার কাছে ফিরে যেতে পারি। আমার শরীর, আত্মা, শুধু তোমার সান্নিধ্যে শান্তিপূরক হয়ে যাবে।
তুমি একমাত্র আশ্রয়, পথের দিশা, সেই আদিম আলো, যা পৃথিবীর অন্ধকার থেকে মুক্তি দেয়। তোমার কাছে শুধু এমন শান্তি চাই—যেই শান্তি হৃদয়ে কষ্টের কোনো ছায়া ফেলতে পরে না, কখনো দুঃখের অতল গহ্বরে ভাসিয়ে নিয়ে যায় না।
তুমি এমন জীবন দাও—যেনো তোমার রহমত বরকতে সহজ সুন্দরে পরিপূর্ণভাবে বাঁচতে পারি। আখেরাতে তোমার করুণায় অনুগ্রহের স্নিগ্ধতায় সমৃদ্ধ হয়ে মুক্তি লাভ করতে পারি। একটাই প্রার্থনা করি—‘দুনিয়ার হাসানা, আখিরাতেও হাসানা এবং জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি দিও।’
কবি ও লেখক


