পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত কোনো বাণিজ্য চুক্তি করা হবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অনলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “এই ইস্যুতে সরকার কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি।”
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রীকে করণীয় সম্পর্কে চিঠি দিয়েছি। এখন সেই চিঠির জবাব ও আমন্ত্রণের অপেক্ষায় আছি। আমন্ত্রণ পেলেই প্রতিনিধি দল সফরে যাবে।”
তিনি বলেন, “১ আগস্ট সময়সীমা সামনে থাকলেও আমাদের কর্মকাণ্ডে কোনো স্থবিরতা নেই। সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয়ভাবে ব্যাপক সমন্বয় করছে। গত ১৫ দিন দিনরাত কাজ হয়েছে। আমাদের অবস্থান যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
লবিস্ট প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “এটা ব্যবসায়ীদের এখতিয়ার। সরকার নিজ থেকে কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি। এছাড়া, যে কাঠামোর মধ্যে এই সিদ্ধান্ত এসেছে সেখানে লবিস্টদের করার কিছু আছে কি না, সেটাও নিশ্চিত না।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব পরিবর্তন আনতে হবে, তা বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারবে না। অনেকগুলো মন্ত্রণালয় মিলে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাজ করছি। লবিস্টদের পক্ষে এটা বোঝা কঠিন।”
দেশের স্বার্থে কোনো আপস নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে”—এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন,
“এ প্রশ্ন অবান্তর। আমিও একজন বাংলাদেশি। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কেন কাজ করবো? আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং করে দিনরাত পরিশ্রম করছি—তা তো হতো না যদি এমন আপসের চিন্তা থাকত।”
পটভূমি
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার দৃঢ় অবস্থানে আছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই সমাধান আসবে।


