পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: দেশে চলমান গ্যাস সংকটের অন্ধকারে নতুন এক আশার প্রদীপ জ্বালালো সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড (এসজিএফএল)। রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের বহুদিনের পুরোনো ৩ নম্বর কূপ পুনরুজ্জীবিত হয়ে আবারও জাতীয় গ্রিডে প্রাণসঞ্চার করেছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে কূপটি থেকে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হওয়ায় মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
গতকাল রবিবার রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে ওয়ার্কওভার শেষে রশিদপুর-৩ কূপ থেকে ১৩৩০ পিএসআইজি প্রেসারে আনুমানিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস প্রবাহ শুরু হয়। ক্লিনআপের পর আজ থেকেই তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। প্রকৌশলীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে নিভে যাওয়া এক কূপ যেন আবারও নবজীবন পেল।
এসজিএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবদুল জলিল প্রামাণিক জানান, “সপ্তাহখানেক আগে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। আজ সেটি বাস্তবে পরিণত হলো।”
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কওভারের সময় কূপটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত হয়। আগামী ১০ বছরে কূপটি থেকে প্রায় ২৫ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক শক্তিশালী সংযোজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের ১২টি কূপের মধ্যে বর্তমানে সাতটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। রশিদপুর-৩ এর পুনর্জাগরণে সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
একই সঙ্গে সিলেটের গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা-১ ও বিয়ানীবাজার-২ কূপের ওয়ার্কওভারের কাজও চলমান রয়েছে। রশিদপুর ফিল্ডে বিদ্যমান পাইপলাইন ও প্রসেস প্ল্যান্ট থাকায় নতুনভাবে উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহে কোনো জটিলতার সম্ভাবনা নেই।
জ্বালানি সংকটে অতিষ্ঠ জনগণ ও শিল্পখাতের জন্য এই সাফল্য নিঃসন্দেহে আশার আলো। ১২ জুলাই পুরোনো রশিদপুর-৩ কূপে যে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, আজ তার ফল ভোগ করছে পুরো জাতি।
এ যেন মৃতপ্রায় শিরায় নতুন রক্তস্রোতের প্রবাহ—যেখানে প্রযুক্তি, অধ্যবসায় আর সময়ের সঙ্গে লড়াই করে আবারও প্রমাণ হলো, দেশের ভেতরে এখনো সম্ভাবনার ভাণ্ডার অগাধ।


