পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে মুসলমানদের দ্বারে আসে। আর এ বরকতময় মাসের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম সমাজ বিশেষ আবেগের সাথে স্মরণ করে রমজানের শেষ জুমা—জুমাতুল বিদা। ইবাদত-বন্দেগির এ মহিমান্বিত মাস বিদায় নেওয়ার আগে শেষ শুক্রবার মুসলমানদের জন্য হয়ে ওঠে আত্মসমালোচনা, তওবা ও অধিক নেক আমলের এক অনন্য সুযোগ।
চাঁদের হিসাব অনুযায়ী আজ ২৩ রমজান। অনেকের মতে, এ বছর আজকের জুমাই জুমাতুল বিদা হতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে রমজান ২৯ দিনে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি তা ঘটে, তবে আজকের জুমাই হবে পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবার। তবে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর।
ইসলামে জুমার দিনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
“সূর্য যে দিনগুলোতে উদিত হয়, তার মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম।” (সহিহ মুসলিম)
এই দিনে দোয়া কবুল হওয়ার একটি বিশেষ সময় রয়েছে বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে। তাই মুসলমানরা এ দিনে বেশি বেশি ইবাদত, দরুদ শরিফ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া-ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করেন।
রমজানের শেষ জুমা উপলক্ষে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অনেকেই এ দিনকে সামনে রেখে আত্মশুদ্ধির জন্য বিশেষভাবে তওবা করেন এবং দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। তবে শরিয়তে “জুমাতুল বিদা” নামে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ বা আলাদা ইবাদতের বিধান নেই—এ কথা আলেমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
রমজানের শেষ দশক এমনিতেই মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ এ সময়েই রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজে অধিক ইবাদত করতেন, রাত জাগতেন এবং পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)।
তাই রমজানের এই শেষ জুমা—যা হয়তো জুমাতুল বিদা—মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্মরণবার্তা। এটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে বরং আত্মসমালোচনা, তওবা এবং বাকি দিনগুলোকে আরও বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক নতুন প্রেরণা হয়ে ওঠে।


