পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। ওই হুমকির পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ মে) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, কোনো ধরনের চাপই ইসরাইলকে চলমান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে বাধা দিতে পারবে না। প্রয়োজনে ইসরায়েল একা দাঁড়াবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি একা দাঁড়াতে হয়, তাহলে আমরা একাই দাঁড়াব। আমরা আমাদের নখ দিয়ে হলেও লড়াই চালিয়ে যাব। কিন্তু আমরা জানি আমাদের আঙুলের নখের চেয়ে অনেক বেশি কিছু আছে। সেই আত্মার শক্তিতে এবং ঈশ্বরের সাহায্যে আমরা একসাথে বিজয়ী হব।’
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এবং গাজায় তাদের অব্যাহত হামলায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু এদিন তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা প্রত্যাখ্যান করে ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘৭৬ বছর আগে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা সংখ্যায় নগণ্য ছিলাম। আমাদের কাছে অস্ত্র ছিল না। ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু আমাদের মধ্যে প্রবল চেতনা, বীরত্ব ও ঐক্যের জোরে আমরা বিজয়ী হয়েছি।’
নেতানিয়াহুর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এর আগে বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলেকে দমিয়ে যাবে না। আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়াব. আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করব। এ কথা ইসরায়েলের শত্রুদের পাশাপাশি সেরা বন্ধুদেরও মনে রাখা উচিত।’
এদিকে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ক্রমাগত বোমাবর্ষণের ফলে সোমবার থেকে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাফাহ ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব মন্তব্য আসলো।
ইতিমধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে রাফাহতে আশ্রয় নেয়া দশ লাখেরও বেশি মানুষের খাদ্য ও জ্বালানি শেষ হয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে কোনোরকম সহায়তা পাচ্ছে না। ইসরায়েলি সৈন্যরা অভিযানের শুরুতে মিশরের সঙ্গে থাকা গাজার রাফা ক্রসিং নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জন কিরবি এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, বাইডেনের দৃষ্টিতে রাফাতে হামলা চালালেই ইসরায়েলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ হবে- তা নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে রাফাহ নিয়ে কথোপকথন এখনও চলছে বলে জানান কিরবি।
সূত্র: বিবিসি


