পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঈদুল আযহা মুসলিম বিশ্বের জন্য ত্যাগ ও বিশ্বাসের মহোৎসব। আর এই কুরবানী উদ্দেশ্য আরশরে মালিকের সন্তুষ্টি। যদিও হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর মহান ত্যাগ স্মরণে মহান রবের আদেশে বিশ্বজুড়ে লাখো মুসলমান এই দিনটি পালন করে থাকে। তবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ভিন্ন অবস্থান, বিভিন্ন সংস্কৃতির কারণে তাদের কোরবানির ধরন, রীতি ও আয়োজনেও দেখা যায় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। নিচে কিছু দেশের ব্যতিক্রমী কোরবানি সংস্কৃতি তুলে ধরা হলো।
তুরস্ক
তুরস্কে ঈদের দিন সকালে নামাজের পর কোরবানি দেওয়া হয় পরিবারের তরফ থেকে। তারা পশুকে বিশেষ যত্ন করে, কোরবানির আগে মাথায় গোলাপজল ছিটায় এবং দোয়া পড়ে। কোরবানির মাংস তিনভাগ করে গরিবদের মাঝে বিলি করার রেওয়াজ রয়েছে।
ইরান
ইরানে কোরবানি একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। অনেকে কোরবানির অংশ হিসেবে পুরো গ্রাম বা পরিবার একসাথে পশু কিনে সম্মিলিতভাবে উৎসব পালন করে। কোরবানির মাংস দরিদ্রদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এই সকল অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নাইজেরিয়া
নাইজেরিয়ায় মুসলমানরা ঈদুল আযহায় কোরবানি করলেও, উৎসবটি সামাজিক সম্প্রীতির রূপ নেয়। মুসলিমরা কোরবানির মাংস খ্রিস্টান প্রতিবেশীদের সাথেও ভাগ করে নেন, যা দেশে ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রতীক।
মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ায় কোরবানি সাধারণত মসজিদভিত্তিকভাবে করা হয়। মাংস সংগৃহীত হয়ে দরিদ্র পরিবারে বিলি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বিলাসবহুল “কোরবানি শোরুম” সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে শোভনীয়ভাবে পশু প্রদর্শন করা হয়।
ইন্দোনেশিয়া
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় হজ পালন করা ব্যক্তিরাই মূলত কোরবানি দেন। তারা মসজিদের মাধ্যমে কোরবানি করে মাংস এলাকার প্রতিটি বাড়িতে সমানভাবে বিতরণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র
মুসলিমরা এখানে নির্ধারিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত জায়গায় কোরবানি করেন। অনেকে আগে থেকেই অনলাইনে অর্ডার করে রাখেন। পশু কোরবানির পর প্রক্রিয়াজাত মাংস প্যাকেটে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সেনেগাল
সেনেগালের মুসলমানরা কোরবানিকে ‘তাবাসকি’ নামে চেনেন। তারা ঈদের আগে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করেন এবং নতুন পোশাক পরে নামাজে যান। কোরবানির মাংস তিন ভাগ করে সমাজের সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন।
মিসর
মিসরে কোরবানির আগের রাতে “লাইলাতুল ঈদ” বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়। কোরবানির দিন মসজিদে নামাজ শেষে সবাই একত্র হয়ে কোরবানি করে। শিশুরা নতুন জামা পরে কোরবানির আনন্দে বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করে।
বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ঈদুল আযহা উপলক্ষে শহর ও গ্রামে জমজমাট পশুর হাট বসে। কোরবানির দিন সকালে নামাজের পর পশু কোরবানি করা হয় এবং মাংস আত্মীয়, দরিদ্র ও প্রতিবেশীদের মাঝে ভাগ করা হয়। পশুর চামড়া মসজিদ-মাদরাসায় দান করার চলও রয়েছে। ঈদ মানেই পরিবারের সবাই মিলে মিলেমিশে উৎসব উদযাপন।
ঈদুল আযহার মূল বার্তা ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা। ভিন্ন ভিন্ন দেশে উদযাপন রীতির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, মুসলিমদের অন্তরের অনুভূতি একই — এক মহান উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করা।


