পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্টের সাথে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত হতে পরে। এরপর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সাথে আলোচনার করার জন্য সে দেশে উড়াল দেবেন। এটি হবে এই বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের তৃতীয় দফা আলোচনা। এর পরে কোনো আলোচনার হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান চূড়ান্ত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এতে অর্থ, কৃষি, শিল্প, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবর রহমান অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চলছে, সে বিষয় নিয়ে আমরা অংশীদার মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করেছি। আমদানি-রফতানির অনেক কিছুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় জড়িত এবং তাদের নিজস্ব আইনও আছে। তাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে জড়িত বিষয়ে আমরা আজকে তাদের মতামত নিলাম। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিষয়ে এখন নিয়মিত বৈঠক হবে। তারপর বাংলাদেশের অবস্থান পেপার প্রস্তুত করে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠাব। তার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।
কবে নাগাদ বাংলাদেশ প্রস্তাব পাঠাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছি, তারা এখনো আমাদের জানায়নি।
ইন্দোনেশিয়ার ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান সচিব।
এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন একটি দল ৯ থেকে ১১ জুলাই ওয়াশিংটনে আলোচনা শেষে গত রোববার দেশে ফিরেছে। দেশে ফিরে গত সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তৃতীয় পর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। আশা করছি, বাংলাদেশ তার সক্ষমতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে এবং বাংলাদেশী পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র যৌক্তিক পর্যায়ে শুল্ক নির্ধারণ করবে। শুল্ক নিয়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা ছিল উৎসাহব্যঞ্জক।
সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়টিতে এখন বাণিজ্যের বাইরেও অন্য অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশে ব্যবসা বাড়াতে চায়। একই সাথে আরো কিছু ‘নন-ডিসক্লোজার’ (প্রকাশ করা যাবে না) আইটেম যোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনাকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে বাংলাদেশকেও তা মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ সে দেশের সাথে ব্যবসাবাণিজ্য করা যাবে না। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্যকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে, তা অন্য কোনো দেশকে না দেয়ার শর্ত রয়েছে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ার মধ্যে রয়েছে, সামরিক কাজে ব্যবহৃত পণ্যসামগ্রী সে দেশ থেকে বেশি করে কেনা হোক। তার বিপরীতে চীন থেকে সামরিক পণ্য আমদানি কমানোর নিশ্চয়তা চায় দেশটি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পণ্য রফতানির একক বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৮৬৯ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, যা দেশের মোট রফতানি আয়ের ১৮ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া বাংলাদেশী পণ্যের ৮৫ শতাংশের বেশি তৈরী পোশাক।


