পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট চলছে প্রায় দুই বছর ধরেই। চরম মূল্যস্ফীতি, ডলারের ক্ষেত্রে টাকার মান হ্রাস, রিজার্ভও তলানিতে। এই পরিস্থিতির জন্য এতদিন শুধু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকেই দায়ী করা হচ্ছিল। দেশের নীতিনির্ধারকদের দাবি, এই সঙ্কট আমদানীকৃত। তবে এবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানালো, সঙ্কট আমদানীকৃত নয়, দেশি কারণই সবচেয়ে বড়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, কেবল যুদ্ধ নয়, অর্থনৈতিক সংকটের জন্য বেশি দায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ অন্তত ছয়টি কারণ। এরমধ্যে দেশের ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ, সিন্ডিকেট, কৃত্রিম ঘাটতি, ঋণখেলাপি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
অর্থনৈতিক সঙ্কটে সম্প্রতি দেশের অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে তিন দফা। এসব বৈঠকে অর্থনীতিবিদদের কাছে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান। সেই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে সংকটের নেপথ্যে দেশী ৬ কারণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক ছয়টি কারণ সম্পর্কে জানিয়েছে, প্রথমত, অনৈতিক ব্যবসা (বিশেষ করে সিন্ডিকেট, মজুতদারি, কৃত্রিমভাবে ঘাটতি দেখানো); দ্বিতীয়ত, দুর্বল করপোরেট পরিচালনা; তিন নম্বরে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি সংস্কৃতি; চার নম্বরে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো; পাঁচ নম্বরে ওভার ও আন্ডার-ইনভয়েসিং অর্থাৎ, আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচার এবং ছয় নম্বরে রয়েছে আবহাওয়াজনিত প্রতিবন্ধকতা যেমন অতি তাপপ্রবাহ, অতি বৃষ্টি, বন্যা ইত্যাদি।
অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনৈতিক সঙ্কটের জন্য বহির্বিশ্বের তিনটি কারণও তুলে ধরেছে। তাদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি; পরিবহন খরচ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কিছুটা দায়ী।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের এই ৯টি কারণেই মূলত দেশের অর্থনীতিতে বড় সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে যেসব উদ্যোগ নীতিনির্ধারকরা নিয়েছেন, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ করেনি, বরং ফল দিয়েছে উল্টো। এতে সংকট আরও গভীরতর হয়েছে।


