পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আইনজীবী মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রংপুরে মানবাধিকার কর্মী মিলি মায়ার দায়ের করা ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। ২২ অক্টোবর সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উত্তরায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরে একটি মানহানির মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মইনুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রংপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ রবের বাসা ঘিরে রাখে। ভেতরে মইনুল ইসলাম অবস্থান করছিলেন। তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর মইনুল হোসেন ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে একাত্তর টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি ও সাখাওয়াত সায়ন্ত। একপর্যায়ে লাইভে যুক্ত হন আইনজীবী মইনুল হোসেন। এ সময় মইনুলের কাছে মাসুদা ভাট্টির প্রশ্ন ছিল, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’ মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন।
সোমবার রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার আদালতে মামলা করলে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। রংপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন টেলিভিশন টকশো-উপস্থাপিকা মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলে আখ্যায়িত করায় দেশের সব নারীকে অপমান করেছেন। নারী সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করে মানহানি করা হয়েছে।
তিনি এজন্য সংক্ষুব্ধ হয়ে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে বিচার প্রার্থনা করে অভিযুক্ত ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের শাস্তি দাবি করেন।
এই ঘটনায় সারা দেশে এ পর্যন্ত মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ অক্টোবর ঢাকায় মাসুদা ভাট্টি নিজে মানহানির একটি মামলা করেন। এছাড়াও সোমবার ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করে নারী সাংবাদিক ও নারী নেত্রিরা। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মামলায়ও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।


