আজ জুমাতুল বিদা

আজ জুমাতুল বিদা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আজ—জুমাতুল বিদা। সারা দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদত-বন্দেগি এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।

রমজানের বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় আজকের জুমা মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই মানুষ ছুটে আসছেন জুমার নামাজ আদায় এবং বেশি বেশি ইবাদতে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে।

আরবি ‘বিদা’ শব্দের অর্থ বিদায় বা শেষ। সে অর্থে ‘জুমাতুল বিদা’ বলতে রমজানের শেষ জুমাকে বোঝানো হয়। এটি কোনো স্বতন্ত্র ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত না হলেও, রমজানের শেষ সময়ের বরকতের কারণে এ দিনের গুরুত্ব বিশেষভাবে অনুভূত হয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে।” (সূরা আল-কদর: ১)

রমজানের শেষ দশক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়েই রয়েছে লাইলাতুল কদর—যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাই এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

হাদিসে এসেছে, নবীজি ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানে সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি)

আরেক হাদিসে তিনি ﷺ বলেন—
“তোমাদের নিকট রমজান এসেছে, এটি বরকতময় মাস… এতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (মুসনাদে আহমদ)

জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কেও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
“সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম।” (সহিহ মুসলিম)

রমজানের শেষ জুমা হওয়ায় আজকের দিনের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। মুসল্লিরা বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, দান-সদকা, জিকির-আজকার এবং তওবা-ইস্তিগফারে মনোনিবেশ করছেন।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, জুমাতুল বিদা হলো আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। পুরো রমজান কেমন কাটলো, আমরা কতটুকু নিজেদের পরিবর্তন করতে পারলাম—এই প্রশ্নগুলো সামনে এনে দেয় এই দিনটি। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে সংশোধনের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণের একটি সুযোগ।

আজ জুমার নামাজের আগে দেশের বিভিন্ন মসজিদে খতিব ও আলেমরা জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করবেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হবে।

রমজানের এই বিদায়ী সময়ে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, অতীতের গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা করা এবং জীবনের বাকি সময়কে দ্বীনের পথে পরিচালিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা। কারণ আমরা কেউই জানি না—এই রমজানই হয়তো আমাদের জীবনের শেষ রমজান।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের বরকত পূর্ণভাবে অর্জন করার তাওফিক দান করুন এবং জুমাতুল বিদার এই পবিত্র দিনে আমাদের দোয়া কবুল করুন।

আমিন

Related Articles