বৃষ্টি ও প্রেম
বৃষ্টি ভেজা এ রাতে পথের কিনারায় দাড়িয়ে তোমার অপেক্ষা করা
কেউ কি জানে এ মধুর অপেক্ষার মজা?
আমাদের জন্যে মনে হয় আজ বৃষ্টি এলো
তোমার সাথে আমার দেখা হবে এই আনন্দে!
তুমি আসবে পরীর রূপে
তোমার কোমল হাতের কাঁচের চুড়ির ঝনঝন শব্দ থাকবে
পা’য়ে নূপুরের ধ্বনি বাজবে
বৃষ্টির সাথে সারা দেহে সৌন্দর্য ঝলমল করবে
তোমাকে বুকে জড়িয়ে নেয়া দেখে চমকে উঠবে পথিক!
শহরের সমস্ত পথ আজ আমাদের
যেথায় ইচ্ছে হারিয়ে যাবো
আমার মনের কথা বলবো তোমাকে
তোমার মনের কথা শুনাবে আমাকে
তুমি কি লজ্জা পাবে?
এই শহরের মানুষজন দেখবে বলে!
শোনো! আজ কোন ভয় নেই
নেই লাজুকতা
আজকের রাতটা তোমার-আমার প্রেমের রাজসাক্ষী হবে
বৃষ্টির জলে স্নান করবো দু’জনে আনন্দে মেতে।
আচ্ছা!
তুমি কি এই ঝড়ের দিনে আমার বুকে মুখ লুকিয়ে বৃষ্টির ছোঁয়া নিবে?
এই শীতল বাতাসে তোমার গরম নিশ্বাসে আমার পুরোটা শরীরে মাখিয়ে দিবে?
হিমি
বৃষ্টি হচ্ছিলো
পাশাপাশি বসা ছিলাম আমি আর হিমি
কার্জন হলের মড়া ঘাসে
ভুল করে হাতে হাত ধরে হিমি বলে—
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
একটি মাত্র বাক্য!
শেষ রাতের কয়েক পশলা বৃষ্টি নামার প্রশান্তি দিল হৃদয়ে
কেমন যেন ভিজে গেলাম আমি।
হিমির দু’চোখের কাজল ছুঁয়ে বলেছিলাম—
‘আমিও ভালোবাসি তো।’
সে দিন কলি থেকে শুরু করে ফুটন্ত
মনের বাগানের সমস্ত টকটকে লাল গোলাপ
হিমিকে উপহার দিয়ে ছিলাম।
কিন্তু সবকিছু কত সহজেই বদলে যায়
দিনের পরে রাতে, জোৎস্নার পরে অমাবস্যা
আচ্ছা হিমি!
তুমিও কি বদলে গেছো?
কিচ্ছু না বলেই হঠাৎ করে শহর ছেড়ে চলে গেলে
হাজার বছর তোমার সাথে দেখা হয় না
কথা হয় না, কোন চিঠিও দাও না
একসাথে বৃষ্টি দেখা, বৃষ্টিতে ভেজা হয় না
হিমি, খুব জানতে ইচ্ছে করে!
এখন বৃষ্টি হলে ভিজবে বলে কার সঙ্গে বায়না করো
কারো বকুনি খেয়ে মাথায় জল মুছো
এখন কি বৃষ্টিস্নান করে ঘরজুড়ে নতুন দিন সাজাও
দু’চোখের পাতায় গাঢ় কাজল দাও
হিমি, আজও বৃষ্টি হচ্ছে!
কার্জন হলে সামনে দিয়ে হেঁটে এসেছি মাত্র
এক বিশাল শূন্যতা অনুভব করছি এ হৃদয়ে
তোমার খানিকটা পরশের দরকার এই সময়টাতে
তুমি কি আর কখনো আসবে না এই শহরে?
হিমি, এক দিন, এক সপ্তাহ, এক মাস, এক বছর, এক যুগ
কিংবা সহস্র বছরের জন্যে নয়
শুধু একটি বার না হয় আবার এসে বলে যেও—
‘ভালোবাসি।’
আমি কার্জন হলের মড়া ঘাসে বসে আছি!


