আবার হকারদের দখলে গুলিস্তানের ফুটপাত

আবার হকারদের দখলে গুলিস্তানের ফুটপাত

পাথেয় রিপোর্টঃ পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে এবংফুটপাতে ব্যবসা করতে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তানে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। বিক্ষোভের ফলে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাদের আন্দোলনের ফলে রাজধানীর ইত্তেফাক মোড় থেকে শাপলা চত্বর এবং ফকিরাপুল থেকে মতিঝিলের রাস্তায় তীব্র যানজটের কারনে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে রোজার প্রথম দিনেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।এই অবস্থার মধ্যে বিকেল বেলা অফিস ছুটি হলে ঘরমুখো মানুষ চরম বিড়ম্বনায় পড়ে, পরে বাধ্য হয়েই হেঁটে রওনা হয়েছেন অনেকেই।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা হলে সন্তোষ প্রকাশ করেছিল পথচারীরা।

ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘ফুটপাত থেকে হকার সরানোর সিদ্ধান্তে কোনো শিথিলতা আসেনি। সিদ্ধান্ত আগের মতোই আছে। যদি কেউ বসে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে’

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (পেট্রোল) আবুল বাশার বলেন, “গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের চারিদিক দিয়ে রাস্তা বন্ধ রেখেছে হকারা। গোলাপ শাহ মাজারের কোনো পাশ দিয়েই কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নগর পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাঁদের কেউ ঢাকা ছেড়ে যাননি। সুতরাং এ বিষয়ে নগরের শীর্ষ কর্তাদের উচিত আমাদের সহযোগিতা করা।’

হকার নেতারা বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না। হকার ব্যবস্থাপনার জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, সেই সঙ্গে আজ (বুধবার) দুপুর থেকে ফুটপাতের এক-তৃতীয়াংশে বসতে দিতে হবে।

ফুটপাতে ব্যবসা করতে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ভাসমান হকারেরা। তাদের এই বিক্ষোভের ফলে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে রোজার প্রথম দিনই অফিস শেষে করে বাড়ি ফেরার পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

পুলিশ জানায়, হকাররা দুপুরের আগে আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা গোলাপ শাহ মাজারের সামনে নর্থ সাউথ রোড বন্ধ করে দেয়।

বেলা ১টার দিকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনের সড়কও তারা অবরোধ করে। এতে পল্টন থেকে ফুলবাড়িয়া হয়ে সদরঘাট, গুলিস্তান থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জিরো পয়েন্ট থেকে সচিবালয়মুখী আব্দুল গণি রোডের ‍মুখে ওয়াসার পয়নিষ্কাশনের বড় বড় পাইপ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেখা যায়।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (পেট্রোল) আবুল বাশার বলেন, “গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের চারিদিক দিয়ে রাস্তা বন্ধ রেখেছে হকারা। গোলাপ শাহ মাজারের কোনো পাশ দিয়েই কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

মো. রুবেল নামের একজন হকার বলেন, “গত চাইর মাস ধরে আমরাবঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারতাসি না। আমরা বেকার হইয়া গেছি। মেয়র বলেছিল বসতে দিব কি না সেই ডিসিশন আজকে দিব। কিন্তু মেয়রের (সাঈদ খোকন) অফিসে গিয়া আমরা তারে পাই না। পরে আমরা রাস্তায় নামছি।”

মনির শেখ নামে আরেকজন হকার বলেন, “আমরা ফুটপাতে বসতে চাই, এখানেই ব্যবসা করতে চাই। ফুটপাত থেকে তারাই মালামাল কেনে যারা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করে। যারা বলছে, আমরা ফুটপাতে বসলে চলাচল করা যায় না, তারা মিথ্যা বলে। তারা উচু তলার মানুষ। ফুটপাত থেকে আমাদের উঠায়া দিলে তারা গাড়ি রাখতে পারবে।”

এই অবস্থার মধ্যে বেলা সাড়ে ৩টায় অফিস ছুটি হলে ঘরমুখো মানুষ পড়ে চরম বিড়ম্বনায়। উপায়ান্তর না দেখে পায়ে হেঁটেই রওনা হতে হয় তাদের।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটের বাস এই গুলিস্তান হয়ে যায় বলে অবরোধের কারণে বহু যানবাহন গুলিস্তানের আশপাশের সড়কে আটকা পড়ে।
কলাবাগান থেকে ভুলতাগামী মেঘলা পরিবহনের চালক মো. আসলাম বিকাল সাড়ে ৩টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই ঘণ্টা ধইরা বঙ্গভবনের সামনে বইয়া রইছি। গাড়ি এক চুলও লড়ে নাই।”

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাসিম কবির বলেন, “গত ৫ মে আমরা মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম, পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত আমাদের ফুটপাতে বসার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি আজকে আমাদের তার অফিসে যেতে বলছিলেন। এগারোটায় সময় দিয়েছিলেন, এখন ৪টা বাজে। তার দেখা পাইনি। এজন্য হকারেরা রাস্তায় নেমে গেছে।”

হকার নেতারা বলেন, গরিব হকারদের পেটে লাথি মারবেন না। আমরা হকাররা সবসময় বিভিন্ন মহলের নির্যাতন সহ্য করে ব্যবসা করে আসছি, সারা দিন কষ্ট করে সামান্য টাকা আয় করে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাই। তাই আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করবেন না।

গুলিস্তান এলাকায় হকাররা বসেছেন, এটা জানা নেই দাবি করে ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এস এম মুরাদ আলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে এই পরিস্থিতি ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৈঠকে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত হয়। এর পর ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ কর্মসূচি শুরু করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *