‘আমাদের আকাবির বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উদাসীন ছিলেন না’
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নেয়ামত তিনি আমাদেরকে মানুষ বানিয়েছেন, আবার ঈমান দান করেছেন। এখন এই ঈমান নিয়ে চলতে পারলে, ঈমানের উপর মৃত্যুবরণ করলে আমরা সফল’— বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম অধ্যাত্মিক রাহবার, জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল আওলাদে রাসূল মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী।
তিনি বলেন, মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও মাকসাদ এটাই যে, মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক জীবন অতিবাহিত করবে। ঈমানের উপর চলা এবং নিজ সন্তান সন্ততিদের কাছে ঈমান পৌঁছানোর জন্য আমাদের আকাবির বুজুর্গানে দ্বীন জায়গায় জায়গায় ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের মারকায চালু করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন অনেক মারকায আছে, অনেক মাদ্রাসা আছে, অনেক এদারা আছে। কিন্তু কিছু এদারা, কিছু মাদ্রাসা এমন আছে, যাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়েছে। সেখানে তালিম, তাদরিসের পাশাপাশি তারবিয়াত ও আছে। আবার এর পাশাপাশি এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা আপন বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি ফিরাকে বাতেলার সামনে সিকান্দারের প্রাচীরের মত ঢাল হয়ে আছে।
সোমবার (২২ মার্চ) বাদ জোহর জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদরাসা মিলনায়তনে শাইখুল ইসলাম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এর দৌহিত্র এসব কথা বলেন।
জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদরাসার প্রশংসা করে জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শিক্ষা-দীক্ষার ও দ্বীন-ইসলামের খেদমত করছে এই জামিয়া। আলহামদুলিল্লাহ এই অঞ্চলে নেতৃত্বের আসনে আসীন তারা। আমার এখানে আসা গৌরব ও সৌভাগ্যের বিষয়। নিজের তো নেকীর কিছুই নেই কিন্তু আপনাদের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই আশা রাখি যে, আমার শেষটা মাহমুদ( প্রশংসিত) হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
হযরত মাদানী বলেন, আমাদের আকাবিররা বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উদাসীন ছিলেন না। আমাদের বুজুর্গানে দ্বীন নিজেদের চেষ্টা, মেহনত, মুজাহাদা, মুশাহাদা, কান্নাকাটি, দূরদর্শিতা ও অবস্থা বুঝে বাতিল মুকাবেলা করেছেন। শহরে নয় অজপাড়াগাঁ গিয়ে গিয়ে। নিজের বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে কখনো উদাসীন হননি। তাই আমাদেরকেও আমাদের দায়িত্ব সবসময় পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন: পরবর্তী প্রজন্ম ভবিষ্যতের আমানত, তাদেরকে মূল্যবান করুন : মাহমুদ মাদানী
ইলম অনুযায়ী আমল করতে হবে উল্লেখ করে হযরত মাদানী বলেন, আপনি যতটুকু ইলম অর্জন করেছেন এতটুকুর উপর আমল করার আগ্রহ যদি তৈরী হয়, তাহলে বুঝবেন আপনার ইলমের নূর অর্জিত হয়েছে। আর যদি জজবা তৈরী না হয়, তাহলে আপনি মাহরূম, বঞ্চিত। এজন্য হযরত থানভী রহমাতুল্লাহি বলেছেন, ‘ইলম এক নূর যা অর্জন করার পর মানুষের ভিতর এর উপর আমল করার আগুন তৈরী হয়।’
মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুসলমানের সাথে মুসলমানের মুআমেলা হবে কল্যাণের এবং ও খায়েরখাহের। অন্য কিছুর নয়। আর আপনার ভেতর যদি মানুষের কল্যাণ করার ইচ্ছে এবং মানুষকে ভালোবাসার ইচ্ছে থাকে, তাহলেই আপনি সঠিক মাকসাদ ও নির্ভুল রাস্তায় চলতে পারবেন।
তিনি বলেন, যেসব মানুষ ইসলাম মানে না, ইসলাম অনুযায়ী চলে না, তাদের ঘৃণা করা যাবে না, তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। ইসলামের পথে চালানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। আমাদের কাজ মানুষকে ভালোবাসা, ঘৃণা করা নয়।
অনুবাদ : মুহাম্মাদ আইয়ুব



