পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বজিৎ মজুমদার কাজ করতেন আসামের হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের নাগাঁও মিলে। ছিলেন ইউটিলিটি ও ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজারের পদে। কিন্তু সেই মিল বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগে, বেতনও পান না প্রায় ২৭ মাস ধরে। অবশেষে অর্থনৈতিক বোঝা টানতে না পেরে আত্মহত্যার করলেন তিনি। আর আত্মহত্যার আগে লিখে দিয়ে গেলেন তার সুইসাইড নোট। যাতে লেখা ‘আই কুইট, ভারত সরকার আমার মৃত্যুর জন্যে দায়ী’।
শুধু বিশ্বজিৎ মজুমদারই নন, এর আগে রাধিকা মজুমদার ও প্রভা ডেকা নামে আরও দুই কর্মচারী বেছে নিয়েছিলেন আত্মহত্যার পথ অবশেষে বিশ্বজিতের নামও যোগ হলো সেই অভাগাদের তালিকায়।
বিশ্বজিতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার স্ত্রী কলকাতার স্কুলে মাষ্টার। তাদের এক মেয়ে নৃ-তত্ত্ববিদ্যা নিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল করছেন, অপর কন্যা কেরালার একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনারত আছেন।মরদেহ পাওয়ার দু-তিন দিন আগে থেকেই বিশ্বজিৎ কারও ফোন ধরছিলেন না।পরে তার সহকর্মীরা কর্পোরেশনের কোয়ার্টার থেকে তার পঁচাগলা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন।
তার সহকর্মী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২৭ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় প্রবল অর্থকষ্টে ভুগছিল বিশ্বজিৎ। তার জমানো টাকাও প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। ফলে মানসিক অস্থিরতা থেকে তিনি আত্যহত্যার পথ বেঁচে নেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে চিরকুট লিখে দায়ী করে গেলেন মোদি সরকারকে।
উল্লেখ্য, হিন্দুস্থান পেপার কর্পোরেশন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা ছিল। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে তা বন্ধ হয়ে যায়।


