স্পোর্টস ডেস্ক ● পাকো আলকাসারের দুই গোলে সেভিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে লা লিগায় নিজেদের জয়ের ধারা ধরে রেখেছে বার্সেলোনা।
কাতালানিয়ার রাজধানীতে বেশ কিছুদিন ধরে স্বাধীনতা প্রশ্নে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই গতকাল বার্সার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ শুরুর আগে বিশাল আকারের পতাকা ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়, যেখানে কাতালান ও ইংরেজী ভাষায় লেখা ছিল, ‘জাস্টিস’। পুরো ৯০ মিনিটই ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এই স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৭১ হাজার দর্শকের কন্ঠে ছিল স্বাধীনতার জন্য বলিষ্ঠ আবেদন।
গত সপ্তাহে বার্সা কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে মজা করে বলেছিলেন মাঠের বাইরের অস্থিরতা তার দলকে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বিষয়টি হাস্যকর হলেও বার্সেলোনা কিন্তু লা লিগায় ১১তম ম্যাচে ঠিকই ১০ম জয় তুলে নিয়েছে। ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে স্বাগতিকরা তিনটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সার্জিও বাসকুয়েটের বল লাইনের ওপর থেকে ক্লিয়ার করেন ক্লেমেন্ট লেনগ্লেট, লুইস সুয়ারেজকে হতাশ করেন ডেভিড সোরিয়া ও ইভান রাকিটিচের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
মূল একাদশে আলকাসারের অন্তর্ভূক্তি অনেককেই বিস্মিত করেছে। এই প্রথম তিনি মূল একাদশে খেলার সুযোগ পেলেন, আর তাতেই বাজিমাত। ২৩ মিনিটে সুয়ারেজের ক্রস থেকে সেভিয়া ডিফেন্ডার সার্জিও এসকুডেরো বল ধরতে ব্যর্থ হলেও আলকাসার সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন। বিরতির আগে অবশ্য কোন দলই আর তেমন কোন সুস্পষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি।
বিরতির পরে ভিন্ন রূপে মাঠে নামে সেভিয়া। এভার বানেগার কর্ণার থেকে গুইডো পিজারো ৫৯ মিনিটে সমতা ফেরান। যদিও সেভিয়ার এই গোল উৎসব বেশীক্ষন স্থায়ী হয়নি। ৬৫ মিনিটে রাকিটিচের ক্রস থেকে পোস্টের খুব কাছে থেকে আলকাসার নিজের দ্বিতীয় গোল করলে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত হয়। বার্সেলোনার হয়ে এটি ছিল লিওনেল মেসির ৬০০তম ম্যাচ। এই জয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের থেকে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে টেবিলের শীর্ষেই থাকলো কাতালান জায়ান্টরা।
দিনের অপর ম্যাচে লেগানেসকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে বার্সার সবচেয়ে কাছাকাছি লড়াইয়ে টিকে থাকলো ভ্যালেন্সিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের ক্লাব ইতিজাসে টানা সাত ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়লো। এদিকে থমাস পার্টিয়েসের ৯১ মিনিটের গোলে দিপোর্তিভো লা করুনাকে কোনরকমে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।


