আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, সতর্ক থাকুন

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, সতর্ক থাকুন

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, সতর্ক থাকুন

মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপি। এখন আর মনে হয় কোন দেশ বাকি নেই। চীনে শুরু হওয়া এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে গেল সব জায়গাতে। যেমন ডিজিটাল যুগ বর্তমান, তেমনি ডিজিটাল ভাবেই এটা বিস্তার লাভ করল।

আগেও এই বিশ্বে বহু বার বিভিন্ন ধরনের মহামারী এসেছে, কিন্তু সেগুলো এতো তাড়াতাড়ি সব দেশে ছড়িয়ে পড়েনি। তখন মহামারীটা কোন একটা বা দুটো দেশেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কিন্তু এখন তো গোটা দুনিয়ার সাথে মানুষের যোগাযোগ। এক দেশ থেকে আরেক দেশে মানুষ বারবার যাতায়াত করছে, এজন্য এই মহামারীটাও সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

পুর্বে যেসব মহামারী হয়েছে, ব্যাপক প্রাণহানী ঘটত তখন। গ্রামের পর গ্রাম মানুষ মারা যেত।কখনো পুরো পরিবার ধরে খালি হয়ে যেত। এক বিভীষিকাময় অবস্হা হয়ে যেত। তবে গোটা দুনিয়ার মানুষ এত আতঙ্কিত হতনা কখনো। বর্তমান সময়ে যেমন মানুষ আতঙ্ক গ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ মুষড়ে পড়ছে। এরূপ কখনো দেখা যায়নি।

এখন এত আতঙ্কিত হওয়ার পিছনে বড় কারণ হলো আমাদের মিডিয়া। প্রচার মাধ্যম গুলো কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে, সঙ্গে সঙ্গে সেটা হাইলাইট করে প্রচার করতে থাকে। একবার দুবার নয়, বারবার প্রচার করতে থাকে।

আজকাল আমাদের সকলের কাছে নেট সিষ্টেম মোবাইল। প্রায় মানুষ এখন ইন্টারনেটের সেবা গ্রহণ করেন। আর টেলিভিশন তো আছেই অধিকাংশ লোকের বাড়ীতে। শহর- বন্দর, গ্রাম গঞ্জে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে টেলিভিশন চলতে থাকে। হাজার হাজার মানুষ সময় পার করে ঐ চায়ের দোকানে। সেই সাথে সকল প্রকার খবরাখবর মানুষের জানা হয়ে যায়।

চীনের উহানে যখন করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছে, তখন থেকে মানুষ খোঁজ নিচ্ছে, কি অবস্থা? এভাবে পুরো দুনিয়ায় যে করোনা ছড়িয়ে যাচ্ছে, সেটার খবরও সবাই রাখেন।

আর এই এত খোঁজ- খবর নেওয়ার কারণে, বারবার মিডিয়াতে করোনার আপডেট দেখার কারণে মানুষ বেশি আতঙ্কিত। অনেকেই তো বেশী পেরেশান।

সে যুগে এত মিডিয়া ছিলনা, এত প্রচারও হতনা, আর মানুষ এত আতঙ্ক গ্রস্থ হত না।

এখন ভয়ে মানুষ কাবু হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক কাজ- কর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে ভয়ে নিজের কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এলাকা ত্যাগ করে অন্য জায়গায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

আসল কথা কি, এত আতঙ্কিত হওয়া যাবেনা। এত ভয়ে অস্হির হওয়া যাবেনা। একজন মুমিন- মুসলমান হিসেবে আল্লাহর উপরে ভরসা রাখতে হবে। সব কিছুর মালিক আল্লাহ। রোগ দেওয়ার মালিক তিনি আল্লাহ, আবার সুস্থ করার মালিক তিনি।

কারো যদি হায়াত ফুরিয়ে যায়, কোন ডাক্তার- কবিরাজ, কোন ঔষধ- পথ্যে কাজ হবেনা। তার যেতেই হবে মহান প্রভুর সাক্ষাতে।

আর কারো যদি হায়াত থাকে, তাহলে কোন রোগ- ব্যাধি কাবু করতে পারবে না। কোন ভাইরাসের শক্তি নেই তাকে পরপারে পাঠাবে।

এজন্য ভরসা রাখুন আল্লাহর উপরে। আল্লাহ তায়ালার ফরমাবরদার হোন। ইবাদতে মনোনিবেশ করুন। ইবাদত আরো বাড়িয়ে দিন। কোরআন তেলাওয়াত করুন আগের থেকে আরো বেশী বেশী।

গোনাহ ছেড়ে দিতে হবে সকলের। কোন ধরনের গোনাহ করা যাবেনা। তওবা করতে হবে বারবার। পূর্বের গোনাহ এর জন্য মহান আল্লাহর কাছে বারবার ক্ষমা চাইতে হবে। কান্না- কাটি করতে হবে তাঁর দরবারে।

সেই সাথে প্রয়োজন সতর্ক থাকা। পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকা। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা। ইসলামে মানুষকে পরিষ্কার থাকতে বলা হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন হয়ে কেউ থাকবেনা। নিজের ঘর – দোর, বাড়ির আঙিনা, কাপড়-চোপড়, থালা – বাসন, আসবাব পত্র বারবার পরিস্কার রাখুন। বাইরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হবে না।অহেতুক ঘোরাফেরা আড্ডাবাজি একদম বন্ধ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের বারবার সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার কথা বলছেন, এটা একটা ভাল কাজ। সব সময় পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন থাকা, এটা কোন তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়।বরং এটা শরীয়াতের দৃষ্টিতে পছন্দনীয়।

আমাদের সরকার এবং বিজ্ঞ আলেমগণ আমাদের সুস্হ থাকার বিষয়ে যে পরামর্শ দিবেন, সেটা অবশ্যই ফলো করতে হবে সকলের। নিজের মত পথকে রেখে মুরুব্বী আলেমদের কথা মেনে চলব ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে দুআ করি মহান রবের কাছে, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *