আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে ত্রিশ লাখ বাঙালি হিন্দুর নাম

আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে ত্রিশ লাখ বাঙালি হিন্দুর নাম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বলেছেন, ভারতের আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে ত্রিশ লাখ বাঙালি হিন্দুর নাম বাদ গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল এমপি শতাব্দী রায়। ৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি ওই মন্তব্য করেন।

শতাব্দী রায় বলেন, আসামে নাগরিকপঞ্জি থেকে যে ৩৮ লাখ বাঙালির নাম বাদ গেছে, ভাবলে অবাক লাগে তার মধ্যে ৩০ লাখই হচ্ছে হিন্দু। আর এখন পর্যন্ত যে ৩২ জন আত্মহত্যা করেছেন তাদের মধ্যে ২৬ জনই হচ্ছে হিন্দু। এরপরও বাঙালিদের কাছ থেকে, হিন্দুদের কাছ থেকে বিজেপি ভোট চায় কী করে?

তৃণমূলের জনিপ্রয় এই নেত্রী বলেন, আমার ধারণা বিজেপি সরকার শুধু আমাদের কিছু ধনী ব্যবসায়ী ছাড়া কাউকে হিন্দু ভাবছে না; কাউকে এদেশের নাগরিক ভাবছে না! কিছুদিন আগে যখন নাগরিকপঞ্জি বের হলো তখন আমাদের দলের এমপিরা আসামে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাদেরকে বিমানবন্দর থেকে বাইরে বের হতে দেয়া হয়নি, হেনস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যে পাঁচজন নিরীহ মানুষ সম্প্রতি নিহত হলেন, তাদেরকে আমাদের দলের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানকার বিজেপি সরকার তাদের জন্য কিছুই করেনি। আমি সেখানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলীয় প্রচারে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রচুর মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে আমার মনে হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থীরা জিতবেন।

শতাব্দী রায় বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, বিজেপি সরকার আসামের মানুষদের ভয় দেখিয়ে রেখেছে, হুমকি দেয় কিন্তু তারা ভরসা পেয়েছেন তৃণমূল তাদের পাশে আছে। মমতা ব্যানার্জি তাদের সঙ্গে আছেন। সেই বিশ্বাস আমরা তাদেরকে দিয়ে এসেছি। যে উন্নয়ন পশ্চিমবঙ্গে হয়েছে সেই উন্নয়ন আসামে হবে সেটা জানিয়ে এসেছি। এজন্য শুধু ওই রাজ্যে পরিবর্তন দরকার।

উল্লেখ্য, আসামের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। গত রোববার সেখানে শতাব্দী রায় এমপিসহ তৃণমূলের এক প্রতিনিধিদল নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন। রাজ্যটির ১৬ জেলায় আজ ও ৯ ডিসেম্বর পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর ফল প্রকাশ করা হবে ১২ ডিসেম্বর।

এসময় সেখানকার মানুষের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের এই নেত্রী বলেন, নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীরা জয়ী হলে তাঁরা সেখানকার মানুষের পাশে থাকবেন এটাই একমাত্র শপথ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অঙ্গীকার’।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *