আসুন ফিকহ পড়াই মায়ের ভাষায় এবং আরবীতে

আসুন ফিকহ পড়াই মায়ের ভাষায় এবং আরবীতে

আসুন ফিকহ পড়াই মায়ের ভাষায় এবং আরবীতে

লাবীব আবদুল্লাহ :: ইসলাম কা মতলব কিয়া হ্যায়? জুওয়াব: …আল্লাহ এক হ্যায়…। একজন শিশুকে উর্দু ভাষায় ফিকহ পড়াননো শুরু হয়৷ সে পড়ে সুওয়াল জুওয়াব আকারে তালীমুল ইসলাম৷ পরে মেয়েদর জন্য লেখা বেহেশত যেওর ও গাওহার৷ এরপর চাপিয়ে দেওয়া হয় মালাবুদ্দাহ মিনহু৷ সেই মোগল যুগের রাষ্ট্র ভাষা ফার্সিতে লেখা কিতাব৷ এরপর শুরু আরবী৷ নূরুল ইযাহ, কুদুরী, কানয, শরহে বেকায়া, হেদায়া আওয়া লাইন ও আখেরাইন৷ উর্দু, ফারসী পরে হইল ফিকহের মূল ভাষা আরবী৷

কেন এই তরতীব? জানিনা; তবে চলছে বহু যুগ থেকে৷ ইদানীং কিছু অসৎ ব্যবসায়ী তালীমুল ইসলাম, বেহেশতি যেওর ও মালা বুদ্দার নকল অনুবাদ ও ভুলেভরা তরমজা করে বাজারে ছড়িয়ে দিয়েছে ৷ সেসব বাজে অনূদিত কিতাব মাদরাসায় পাঠ্য করছেন কেউ কেউ৷

আমাদের শিক্ষাক্রমে ফিকহর গুরুত্ব বেশী৷ এমন কি শিক্ষা জীবনের চূড়ান্ত পর্যায়েও হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাই ওয়া সাল্লামকে ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গিতে দরসের রেওয়াজ আছে৷ সনদ ছেড়ে মতন৷ এবং মতনেও ফিকহুল মুকারান খুঁজি আমরা৷ নিজের মাজহাবের দলিল না জানলেও তিন মাজহাব ও লামাজহাবীদের দলীলের তারদীদ ও ওয়াজহুত তারজীহ নিয়ে চলে যায় হাদীস পড়ার দুই বছর৷ মিশকাত ও দাওরার বছর৷ দাওরার পর আবার মুফতীর সনদের জন্য কিছুটা পাগলপ্রায়৷ এক সাল দুই সাল আবার উর্দু ফিকহের কিতাবে সময় ব্যয়৷

কেন? অনেক কারণ৷ বিয়ে, ইমামতি ও ভালো কিতাব পড়ানোর সুযোগ হয় মুফতী সাব হলে৷ আরও বহু কারণ৷ এই রুজহান ও প্রবনতা আগামী দিনে প্রবল জোয়ারে রূপ নেবে এবং তার সমূহ আলামত দেখা যাচ্ছে৷ লক্ষহীন তালেবে ইলম মনে করছে ইফতা পড়লেই তাঁর নানা কিছুর সমাধান মিলবে!

তবে দক্ষ, প্রাজ্ঞ ও যুগসচেতন মুফতীও কিন্তু বের হচ্ছেন আমাদের প্রতিকূল পরিবেশেও৷ তাদের মর্যদা ও সম্মান আমাদের দিতেই হবে৷ এবং তারা হলেন আমাদের সেরে তাজ৷

আধুনিক ও যুগ সমস্যার সমস্যার সমাধান দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করলে বেশি কিছু হবে না৷ দেশীয় ও আন্তরজাতিক আইন না জেনে শুধুই কিছু মাসআলা পড়ে ব্যাক্তিগত জীবনে শরীয়ার কিছু নিয়ম হয়তো জানা যাবে কিন্তু জাতীয় জীবনে বুদ্ধি যুদ্ধ ও চৈন্তিক লড়াইয়ে পরাজিত হতে হবে৷

ফিকহ আফজালুল ইলম৷ পড়তে হবে দলিলসহ৷ যৌক্ততা তোলে ধরতে হবে৷ শরীয়াহর সৌন্দর্য বিশ্ব দরবারে তোলে ধরতে হবে৷ মানব রচিত বিধানে কোনো শান্তি নেই তা বলতে শিখতে হবে৷ বলার আধুনিক টেকনিকও জানতে হবে৷

যাক ফিকহ নিয়ে বেশি বললে আবার আমার মুখালেফ একটি ফাতওয়া লেখতে পারেন আমাদের বুদ্ধিমান দোস্তগন , তাই খসড়া প্রস্তাব দিয়ে কেটে পড়ি!

প্রস্তাবনা

ইবতেদায়ী তালেবে ইলমদের উপযোগী ভাষায় এবং মায়ের ভাষায় ফিকহের কিতাব রচনা করা হোক৷ সহজ আরবী ভাষায় পুরনো কিতাবগুলোর তারতীব দেওয়া যেতে পারে৷ আরব বিশ্বে রচিত পাঠ্য কিতাবগুলো সামনে রেখে ফিকহের কিতাবে আয়াত ও হাদীস সংযোগ করা যেতে পারে৷ উচ্চতর দরসগুলো মুহাজারা পদ্ধতিতে হতে পারে৷

ইফতায় দেশীয় ও আন্তার্জাতিক আইণগুলো পড়ানোর সেমিস্টার নির্ধারন করা যেতে পারে৷ দলিলসহ কিতাবগুলো পাঠ্য করা যেতে পারে৷ ফিকহের পাঠ্যভুক্ত কিতাব যেমন মালাবুদ্দাকে আরবী করা যেতে পারে৷ এবং হাদীসকে হাদীসের মতো পড়িয়ে ফিকহী দলীলগুলোর পৃথক সংকলন করা যেতে পারে বা সংকলিত কিতাব পাঠ্য করা যেতে পারে৷

প্রাথমিক স্তরের কিতাবগুলো রচনার জন্য একদল নবীন মুফতী এগিয়ে আসতে পারেন৷ মনে রাখতে হবে ইফতা পড়লেই মুফতী নয়৷

লেখক : মাদরাসার শিক্ষক ও কলামিস্ট

২০১৫ সালে লিখিত একটি লেখা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *