পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেন জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রাজধানী কিয়েভ এবং অন্যান্য অনেক শহরের বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে। কিয়েভসহ সারাদেশে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার তৈরি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেন নিজে স্পষ্টভাবে দায় স্বীকার না করলেও রাশিয়া বলছে ওই ঘটনা তাদেরই ‘সন্ত্রাসী কাজ’। কিয়েভ থেকে গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে এটি সবচেয়ে বড় হামলা।
সকালের ব্যস্ত সময়ে কিয়েভ শহরের প্রাণকেন্দ্রে ব্যস্ত সড়ক, পার্ক এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানে। শিশুদের একটি খেলার মাঠের পাশে একটি বিশাল গর্ত দেখা যায়। কাছাকাছি সেতুকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, গুরুতর আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ‘বিশ্বের বুক থেকে ইউক্রেনকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।’
কিয়েভের পাশাপাশি খারকিভ, লাভিভ, দনিপ্রো, জাপোরিঝিয়াসহ অন্যান্য ইউক্রেনীয় শহরেও আক্রমণ হয়েছে। অনেক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার এসব হামলার কড়া সমালোচনা হয়েছে। ইইউর পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র জোসেপ বোরেল বলেছেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। যুক্তরাজ্য একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে। ফরাসি ও জার্মান নেতারাও টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহানাত বলেছেন, রাশিয়া ৮৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ৪৩টিরও বেশি ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন,কাস্পিয়ান এবং কৃষ্ণ সাগর থেকে কালিবার, ইস্কান্দার এবং কেএইচ-১০১ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
রাশিয়ার এ ধরনের উপুর্যপরি হামলা আধুনিক পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা হাতে পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের আহ্বান আরো জোরদার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের তথ্য মতে, তাদের উন্নত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান নভেম্বরের শেষের দিকে ইউক্রেনে যাওয়ার কথা।
সর্বশেষ কয়েক মাসে কিয়েভে কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। তবে ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ কিয়েভের আশপাশে হামলা চালিয়েছিল রুশ বাহিনী। কিন্তু এবারের হামলা শহরটির কেন্দ্রের আরো বেশি কাছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাত্র দুই দিন আগে রাশিয়ার সাথে অধিকৃত ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করা একমাত্র সেতুটি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটল।
- সূত্র : বিবিসি


