আগের লেখায় আমরা কুরবানির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জেনেছি। হযরত আদম আ. থেকে হযরত ইবরাহীম আ. পর্যন্ত এ দীর্ঘ সময় এ কুরবানি ছিল মূলত হক-বাতিল, সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকরণের বিশেষ মাধ্যম। যেমন হযরত আদম আ. স্বীয় পুত্রদ্বয়কে কুরবানির আদেশ করেছিলেন, তাদের মধ্যে বিদ্যমান হক-বাতিলের দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য। এভাবে হযরত ইবরাহিম আ. পর্যন্ত চলে আসে।
আমরা যে কুরবানি করি এর সূচনা হযরত ইবরাহীম আ. থেকে। তাই কুরবানিকে ‘সুন্নাতে ইবরাহীম’ও বলা হয়। তাফসীর, ইতিহাস ও হাদীসের কিতাবে ইবরাহীম আ. ও কুরবানির ইতিহাস বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। সংক্ষেপে এখানে কিছু পেশ করলাম।
আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে হযরত ইবরাহীম আ. স্বপ্নযোগে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানির জন্য আদিষ্ট হন। ইবরাহিম আ. পরপর তিনদিন দৈনিক ১০০টি উট কুরবানি করেন। কিন্তু আল্লাহর কাছে তা কবুল হলো না। বারবার স্বপ্নযোগে আদেশ হলো ‘তুমি তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কুরবানি করো’। অবশেষে তিনি নিজের প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল আ.কে কুরবানি করার জন্য মনস্থির করলেন। চড়াই উতরাই ও বিভিন্ন পরীক্ষা এবং শয়তানের প্ররোচনা পেছনে ফেলে অবশেষে পিতাপুত্র উপস্থিত হলেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণে। রবের দরবারে উপস্থিত পিতাপুত্র। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য ছিলো ভিন্ন। পুত্র কুরবানি নয়। তাই ইবরাহিম আ. যখন পুত্র ইসমাইল আ.কে যবাই করার জন্য প্রস্তুত, তখন বেহেশত থেকে আল্লাহ একটি দুম্বা প্রেরণ করেন। ইসমাইল আ.-এর বদলে দুম্বা’টি কুরবানি করা হয়।
ইবরাহিম আ. যখন পুত্র ইসমাইল আ.কে যবাই করার জন্য প্রস্তুত, তখন বেহেশত থেকে আল্লাহ একটি দুম্বা প্রেরণ করেন। ইসমাইল আ.-এর বদলে দুম্বা’টি কুরবানি করা হয়।
পিতাপুত্র আল্লাহর রাহে নিজেদের উৎসর্গ ও সমর্পণের যে বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা আল্লাহ তায়ালার খুব পছন্দ হয়। আর কেয়ামত পর্যন্ত উম্মতে ইবরাহীমির জন্য কুরবানির এ বিধান চালু করে দেন।
উল্লেখ্য, ইতিহাসের কিতাবে বর্ণিত আছে; ইসমাইল আ.-এর পরিবর্তে যবেহকৃত দুম্বাটি ছিলো কুরবানির জন্য পেশকৃত হাবিলের সেই দুম্বা। এই ঘটনা দ্বারা আমরা শিখতে পারি ইখলাসের সাথে কোন ভালো কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন এবং পরে তার এ ভালো কাজটি জারি রাখেন।
কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের কুরবানির গোশত, রক্ত, বরং আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ


